বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মার্কিন কূটনীতি, উদ্বিগ্ন মিত্ররা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প- এর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কাঠামো বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত, বিশেষ দূতদের প্রভাব বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে শূন্যপদ বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলো নতুন কূটনৈতিক কৌশল নিতে বাধ্য হচ্ছে। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫টি রাষ্ট্রদূত পদের মধ্যে অন্তত ১০৯টি পদ বর্তমানে শূন্য। এতে করে অনেক দেশ সরাসরি হোয়াইট হাউস ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খুঁজছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে “একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে” মন্তব্য করলে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে কর্মকর্তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে মার্কিন কূটনীতির ঐতিহাসিক ভাঙনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিত্র দেশগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের

বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মার্কিন কূটনীতি, উদ্বিগ্ন মিত্ররা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প- এর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কাঠামো বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত, বিশেষ দূতদের প্রভাব বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে শূন্যপদ বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলো নতুন কূটনৈতিক কৌশল নিতে বাধ্য হচ্ছে।

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫টি রাষ্ট্রদূত পদের মধ্যে অন্তত ১০৯টি পদ বর্তমানে শূন্য। এতে করে অনেক দেশ সরাসরি হোয়াইট হাউস ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খুঁজছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে “একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে” মন্তব্য করলে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে কর্মকর্তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে মার্কিন কূটনীতির ঐতিহাসিক ভাঙনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিত্র দেশগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল’ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

বিশেষ করে জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ–এর মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাদের কারও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিভিন্ন দেশ এখন তাদের মাধ্যমেই হোয়াইট হাউসের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পররাষ্ট্র দপ্তরে বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম চালাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা দপ্তর ছেড়েছেন এবং বহু ক্যারিয়ার কূটনীতিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় ইউক্রেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত নীতিতে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিকরা। সাবেক রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিংক দাবি করেন, ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলেও কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তারা কোনো ব্যাখ্যা পাননি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোও এখন সরাসরি ট্রাম্প ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা জানিয়েছেন, তারা অনেক সময় মাসায়োশি সন–এর মাধ্যমে ট্রাম্পের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও পেশাদার কর্মকর্তাদের পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হয়েছে এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow