ভাইরালের পর রেহানার কাছে ফিরে এলেন ‘নেশাগ্রস্ত’ স্বামী

অভাবের তাড়নায় নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা বাগেরহাটের রামপালের রেহেনা বেগমের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বামী জাফর আলী  এখন সংসারে ফিরে এসেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকাসক্ত জাফর আলী স্ত্রী রেহানাকে নিয়মিত মারধর করতেন। রেহেনার কষ্টের কথা প্রকাশ্যে আসার পর এখন আর্থিক সহায়তার আশায় তিনি ফিরে এসেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে রামপালের ফয়লা বাজারের বাবুল বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার বড়হর গ্রামের মৃত রাজ্জাক মোল্লার ছেলে জাফর আলীর সঙ্গে রেহেনার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের বিয়ে হয়। তবে জাফর আলীর আগের একটি সংসার রয়েছে এবং সেখানে সন্তানও আছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রেহেনারও এর আগে বিয়ে হয়েছিল বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামে। ওই সংসারে সাকিল নামে ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর রেহেনা ফয়লা বাজারের বাবুল বেকারিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। জাফরের সঙ্গে বিয়ের পর তাদের সংসারে রোহান (

ভাইরালের পর রেহানার কাছে ফিরে এলেন ‘নেশাগ্রস্ত’ স্বামী
অভাবের তাড়নায় নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা বাগেরহাটের রামপালের রেহেনা বেগমের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বামী জাফর আলী  এখন সংসারে ফিরে এসেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকাসক্ত জাফর আলী স্ত্রী রেহানাকে নিয়মিত মারধর করতেন। রেহেনার কষ্টের কথা প্রকাশ্যে আসার পর এখন আর্থিক সহায়তার আশায় তিনি ফিরে এসেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে রামপালের ফয়লা বাজারের বাবুল বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার বড়হর গ্রামের মৃত রাজ্জাক মোল্লার ছেলে জাফর আলীর সঙ্গে রেহেনার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের বিয়ে হয়। তবে জাফর আলীর আগের একটি সংসার রয়েছে এবং সেখানে সন্তানও আছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রেহেনারও এর আগে বিয়ে হয়েছিল বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামে। ওই সংসারে সাকিল নামে ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর রেহেনা ফয়লা বাজারের বাবুল বেকারিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। জাফরের সঙ্গে বিয়ের পর তাদের সংসারে রোহান (৫) নামে এক ছেলে ও আলোমতি (৩) নামে এক মেয়ে রয়েছে। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে রেহেনা ফয়লা বাজারসংলগ্ন সন্তোষপুর গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ভাড়া বাড়িতে মাসে এক হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাফর আলী মাদকাসক্ত। তিনি প্রায়ই রাতে রেহেনার সঙ্গে ঝগড়া করতেন এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করতেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও বাড়ির মালিকের কাছে একাধিকবার অভিযোগও করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছুদিন আগে বাড়ির মালিক বেল্লাল হোসেন রেহেনাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। পরে তিনি ওই বাড়ি ছেড়ে দেন। রেহেনাকে এক সপ্তাহ পূর্বে স্থানীয় একটি মুদি দোকানের সামনে জাফর আলী তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কালবেলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় রেহেনার বাম চোখের পাশে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এ সময় তিনি বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। সম্প্রতি অভাবের কারণে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসার পর শনিবার রেহেনার কাছে ফিরে আসেন জাফর আলী। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, রেহেনার দুর্দশার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তিনি এখন আর্থিক সহায়তার ভাগ বসাতে এসেছেন। তবে এ বিষয়ে জাফর আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে রেহেনার মানবেতর জীবনযাপনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। রোববার (০৯ আগস্ট) বিকেলে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না ফেরদৌসী  এবং প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধিরা রেহেনা বেগমের জন্য থাকার সরকারি আবাসনের ব্যবস্থাসহ নগদ অর্থ এবং শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করেন। রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কালবেলাকে জানিয়েছেন, রেহেনা চাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের খালি ঘরে তার থাকার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি সেখানে থাকতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু এককালীন সহায়তা নয়, রেহেনা ও তার সন্তানদের নিরাপদ আবাসন, নিয়মিত খাবার এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ থাকা জাফর আলীর বিষয়েও প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow