ভাগ্নির সাফল্যের খবর শুনে হলি ক্রসে খালার চোখে আনন্দাশ্রু

বেলা তখন আনুমানিক ১১টা। কোলে এক শিশু নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলি ক্রস বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের সামনে ঘোরাঘুরি করছেন মারুফা আক্তার। কিছুক্ষণ পর পরই মোবাইলফোনে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাইমুন নাহার প্রাপ্তির খালা মারুফা আক্তার। বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রেজাল্ট না দেখতে পেরে সশরীরে রেজাল্ট জানতে হাজির হয়েছেন তিনি। কিন্তু তখনো বিদ্যালয়ের বোর্ডে ঝোলেনি রেজাল্ট শিট। এরই মধ্যে হঠাৎ ফোন বেঁজে ওঠে মারুফা আক্তারের। কিছুক্ষণ কথা বলতেই খুশিতে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে পানি। কথায় বোঝা যায় রেজাল্ট জানতে পেরেছেন তিনি। জিজ্ঞাসা করতেই মারুফা জানান, মেয়ের আদরে মানুষ করা ভাগ্নির সাফল্যের কথা। বলেন, ‘খুশিতেই কান্না করে দিয়েছি।’ সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় মারুফা আক্তারের সঙ্গে। মারুফা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, এটা এমন একটা প্রাপ্তি সেটা বলে প্রকাশ করার মতো না। কিছু প্রাপ্তি থাকে যার কারণে খুশিতে চোখে জল চলে আসে। শিক্ষার্থী সাইমুন নাহার প্রাপ্তির কথা তুলে ধরে মারুফা বলেন, এট

ভাগ্নির সাফল্যের খবর শুনে হলি ক্রসে খালার চোখে আনন্দাশ্রু

বেলা তখন আনুমানিক ১১টা। কোলে এক শিশু নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলি ক্রস বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের সামনে ঘোরাঘুরি করছেন মারুফা আক্তার। কিছুক্ষণ পর পরই মোবাইলফোনে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাইমুন নাহার প্রাপ্তির খালা মারুফা আক্তার। বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রেজাল্ট না দেখতে পেরে সশরীরে রেজাল্ট জানতে হাজির হয়েছেন তিনি। কিন্তু তখনো বিদ্যালয়ের বোর্ডে ঝোলেনি রেজাল্ট শিট। এরই মধ্যে হঠাৎ ফোন বেঁজে ওঠে মারুফা আক্তারের। কিছুক্ষণ কথা বলতেই খুশিতে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে পানি। কথায় বোঝা যায় রেজাল্ট জানতে পেরেছেন তিনি।

জিজ্ঞাসা করতেই মারুফা জানান, মেয়ের আদরে মানুষ করা ভাগ্নির সাফল্যের কথা। বলেন, ‘খুশিতেই কান্না করে দিয়েছি।’

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় মারুফা আক্তারের সঙ্গে।

মারুফা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, এটা এমন একটা প্রাপ্তি সেটা বলে প্রকাশ করার মতো না। কিছু প্রাপ্তি থাকে যার কারণে খুশিতে চোখে জল চলে আসে।

শিক্ষার্থী সাইমুন নাহার প্রাপ্তির কথা তুলে ধরে মারুফা বলেন, এটা অবশ্যই তার একটা সেরা প্রাপ্তি। এত বছর এত পরিশ্রম করেছে। তার কাছে আমাদেরও আশা ছিল, যে সে ভালো একটা রেজাল্ট করবে। তারও আশা ছিল আমাদের এবং স্কুলকে ভালো একটা ফলাফল দিতে পারবে। সেই আশানুরূপ ফলাফল আমরা পেয়েছি। এই খুশিটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এই খুশিতেই কান্না করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি ওর খালামনি, মা না। কিন্তু ছোট সময় থেকে আমিই ওকে দেখাশোনা করেছি। পড়া-লেখা যা করানোর প্রয়োজন সব আমিই করেছি। আমিই স্কুলে নিয়ে আসছি, আবার নিয়ে গেছি। এই জন্য আমার খুশিটা বেশি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। সে ক্ষেত্রে গত ২০ জুলােই ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এবার এসএসসির ফল প্রকাশ করতে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

এদিকে এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে।

গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ কমেছে।

কেআর/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow