ভারতের কারাগারে মৃত্যু, ৩৮ দিন পর বাংলাদেশে ফিরল মরদেহ

অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে কারাগারে মারা যাওয়ার ৩৮ দিন পর খাইরুজ্জামাল নামের এক বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাটের চ্যাংড়াবান্দা (বুড়িমারী) স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খাইরুজ্জামাল (৪২) কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে অবৈধ পথে ভারতে যান খাইরুজ্জামাল। সেখানে অবস্থানকালে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন তিনি। কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে ভারতের জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয় আইনি প্রক্রিয়া। প্রায় ৩৮ দিন দুই দেশের প্রশাসনিক যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের চেংড়াবান্দা (বুড়িমারী) ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), দুই দে

ভারতের কারাগারে মৃত্যু, ৩৮ দিন পর বাংলাদেশে ফিরল মরদেহ

অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে কারাগারে মারা যাওয়ার ৩৮ দিন পর খাইরুজ্জামাল নামের এক বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাটের চ্যাংড়াবান্দা (বুড়িমারী) স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

খাইরুজ্জামাল (৪২) কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙা গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে অবৈধ পথে ভারতে যান খাইরুজ্জামাল। সেখানে অবস্থানকালে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন তিনি। কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে ভারতের জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।

মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয় আইনি প্রক্রিয়া। প্রায় ৩৮ দিন দুই দেশের প্রশাসনিক যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের চেংড়াবান্দা (বুড়িমারী) ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত খাইরুজ্জামালের ছোট ভাই খয়বর আলী বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি জানতে পারি, ভারতের জলপাইগুড়ি কারাগারে আমার ভাই মারা গেছে। ভারত থেকে কীভাবে ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে আসব, নিরুপায় ছিলাম আমরা। সাংবাদিক বশির ভাইয়ের সহযোগিতা নিয়ে ভাইকে দেশে আনতে পেরেছি।

রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ বলেন, খাইরুজ্জামালের মায়ের যে আকুতি ছিল, তার ছেলেকে একনজর দেখতে চাওয়া। তার এমন আকুতিতে আমি চরমভাবে ব্যথিত হয়েছিলাম। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে টানা ৩৬ দিনের প্রচেষ্টায় খাইরুজ্জামালের মরদেহ দেশে এনে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি। এটাই আমার ভালো লাগা। 

উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, আমরা মরদেহ ফেরত আনার ব্যাপারে খাইরুজ্জামালের পরিবার এবং রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজারকে সার্বিক পরামর্শ দিয়েছি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে খাইরুজ্জামালের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow