ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের বার্তা সব জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে: সিইসি

10 hours ago 6

পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতাকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ‘বটম লাইন’ উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের বার্তা সব জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুদিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বটম লাইন হলো পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বারবার এ বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান তিনি। বলেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কখনো নৈতিকতার বিকল্প হতে পারে না। তাই নৈতিকতার মান অটুট রাখতে হবে।

যোগাযোগ ভেঙে পড়া মানেই সবকিছু ভেঙে পড়া উল্লেখ করে তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় যেন বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছে যায়, সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

নির্বাচন ঘিরে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক বা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ তো আছেই। তবে এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য (মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন) ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন আলাদা সেল গঠন করবে।

এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে যে অর্থ ব্যয় করা হয়, সেটিকে ব্যয় নয় বরং বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। আপনি যখন স্বাস্থ্য বা শিক্ষায় টাকা খরচ করেন, আসলে সেটি বিনিয়োগ। একইভাবে প্রশিক্ষণে ব্যয়ও একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

যোগাযোগ ভেঙে পড়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেখানকার একটি ক্লাসের উদাহরণ দিয়ে সিইসি বলেন, কাগজে লেখা বার্তা যখন পর্যায়ক্রমে এক ব্যক্তি থেকে অন্যের কাছে পৌঁছায়, তখন মূল বার্তা বিকৃত হয়ে যায়। এভাবেই যোগাযোগ ভেঙে পড়ে, নির্বাচন প্রক্রিয়াতেও এ ঝুঁকি থাকে। তাই মনোযোগ দিয়ে শোনা ও সঠিকভাবে নোট নেওয়া খুব জরুরি।

এসময় তিনি প্রশিক্ষকদের অনুরোধ করে বলেন, আইন-কানুন শেখানোর পাশাপাশি ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের দায়িত্বও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এ বার্তা প্রত্যন্ত গ্রাম, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা—সব জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে।

সিইসি বলেন, পেছনের সারিতে বসা প্রশিক্ষণার্থীরা প্রায়ই ঝিমায় বা ঘুমিয়ে পড়ে। এতে যোগাযোগ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতা—এসব বিষয় সামনে রেখে আমরা কাজ করতে চাই।

এমওএস/এমকেআর/জিকেএস

Read Entire Article