ভোটে জিতেও স্বস্তিতে নেই দুই হেভিওয়েট নেতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও তাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের দুই বিজয়ীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া এখন নির্ভর করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর। জানা গেছে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনের আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান সংশ্লিষ্ট আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবং পাওনাদার ব্যাংক। হাইকোর্ট তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা যাবে না। এদিকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা আইনি জটিলতা উপেক্ষা করেই ধানের শীষের প্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও তাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের দুই বিজয়ীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া এখন নির্ভর করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনের আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান সংশ্লিষ্ট আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবং পাওনাদার ব্যাংক। হাইকোর্ট তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা যাবে না।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা আইনি জটিলতা উপেক্ষা করেই ধানের শীষের প্রার্থীদের বেছে নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) : বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। জয়ের ব্যবধান প্রায় ৫৩ হাজার।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) : বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। জয়ের ব্যবধান প্রায় ৭৬ হাজার।
আইনজীবীদের মতে, আপিল বিভাগের চূড়ান্ত শুনানিতে যদি তারা ঋণখেলাপি নন বলে প্রমাণিত হন, তবেই নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে। অন্যথায় আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে যমুনা ব্যাংক পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করায় বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী মীর শফিকুল মিলন জানান, তফসিল ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ আনা হয়। নির্বাচনে জয়ী হলেও এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই সব নির্ভর করছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিজয়ী প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়ি আসনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দিয়েছিলেন। ৪টিতেই আমি জয়ী হয়েছি। ইনশাআল্লাহ, বাকি একটিতেও আদালতে ন্যায়বিচার পাব এবং জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটবে।
নির্বাচনী লড়াই শেষ হলেও এখন মূল লড়াই হবে আদালত প্রাঙ্গণে। চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত এই দুই আসন কার্যত প্রতিনিধিত্বহীন থাকার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
What's Your Reaction?