ভোলায় নারীদের ব্যতিক্রমী চাকরি মেলা: ১১৭ জনের কর্মসংস্থান

ভোলায় নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিকল্প শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ২৮৭ জন বেকার নারী এই মেলায় অংশ নেন। এতে ১১৭ জন প্রশিক্ষিত তরুণীর বিভিন্ন ট্রেডে কর্মসংস্থান হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজ অডিটোরিয়ামে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এই মেলার আয়োজন করে।মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন। ইএসডিও স্কুল থেকে ঝরে পড়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী মেয়েদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কাজ করছে। এই মেলা সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে।কর্মসংস্থানের আশায় বুক বেঁধে থাকা দেশের লাখ লাখ বেকারের মাঝে আশার আলো নিয়ে আসে বেশ কিছু কোম্পানি। সোমবার সকালে ভোলার উপশহর বাংলাবাজার ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় ১৪টি স্টল দিয়ে চাকরি দেওয়ার পসরা সাজিয়ে বসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন উপজেলার প্রশিক্ষিত ২৮৭ জন নারী চাকরি মে

ভোলায় নারীদের ব্যতিক্রমী চাকরি মেলা: ১১৭ জনের কর্মসংস্থান

ভোলায় নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিকল্প শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ২৮৭ জন বেকার নারী এই মেলায় অংশ নেন। এতে ১১৭ জন প্রশিক্ষিত তরুণীর বিভিন্ন ট্রেডে কর্মসংস্থান হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজ অডিটোরিয়ামে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এই মেলার আয়োজন করে।

মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন। ইএসডিও স্কুল থেকে ঝরে পড়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী মেয়েদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কাজ করছে। এই মেলা সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে।

কর্মসংস্থানের আশায় বুক বেঁধে থাকা দেশের লাখ লাখ বেকারের মাঝে আশার আলো নিয়ে আসে বেশ কিছু কোম্পানি। সোমবার সকালে ভোলার উপশহর বাংলাবাজার ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় ১৪টি স্টল দিয়ে চাকরি দেওয়ার পসরা সাজিয়ে বসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন উপজেলার প্রশিক্ষিত ২৮৭ জন নারী চাকরি মেলায় রেজিস্ট্রেশন করেন। এর মধ্যে প্রায় ১১৭ জন নারী ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দক্ষতা ও মেধা যাচাই করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। কেউ কেউ আবার পেয়েছেন বিনা শর্তে ব্যাংক ঋণ সহায়তা।

মেলায় অংশ নিয়ে চাকরি প্রত্যাশী তরুণীরা চাকরি পেয়ে খুশি। চাকরি পাওয়ার এমন পদ্ধতির জন্য ইউনিসেফ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওকে ধন্যবাদ জানান তারা। চাকরি পাওয়া তরুণী আফসা জানান, "আমি আমার জীবনে এই ঋণ কখনো শোধ করতে পারবো না। ইএসডিওর মাধ্যমে আমি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ পেয়েছি। এখন কোনো ধরনের টাকা-পয়সা ছাড়া একটা চাকরি পেয়েছি। এটি আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।" দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে পেরে খুশি উদ্যোক্তারাও। এবি ব্যাংকের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন জানান, এখানে যারা নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন, তাদের মধ্যে থেকে বাছাই করে আমরা ৯ জনকে উদ্যোক্তা ঋণ দিয়েছি, যেন তারা তাদের ব্যবসা সমৃদ্ধ করতে পারেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও ঝরে পড়া রোধে এই প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা।

ইএসডিওর সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার জিনাত আরা বিশ্বাস জানান, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর বরিশাল বিভাগীয় প্রধান মো. কাউসার হোসেন বলেন, "এই মেলার মাধ্যমে নারীদের বাল্যবিয়ে রোধ ও ঝরে পড়া রোধে সহায়ক হবে। পাশাপাশি চাকরি পাওয়ার মধ্য দিয়ে নারী ক্ষমতায়ন পাবে।" তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, এর মাধ্যমে ঝরে পড়া রোধ হবে এবং নারী আত্মকর্মসংস্থানের ফলে পরিবার ও সমাজ লাভবান হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ভোলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন বলেন, "ইএসডিওর এই চাকরি মেলায় শুধু দেশের বেকারত্ব দূর হবে না, বরং এখানে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত হয়ে দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হবে।"

ইকো-সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা স্কুল থেকে ঝরে পড়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী মেয়েদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কাজ করছে। ইএসডিও জানায়, গত আড়াই বছরে ভোলায় প্রায় ১ হাজার ৯৯৫ জন নারীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৭ জন নারী ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছেন। প্রকল্পটি সহযোগিতা করে ইউনিসেফ ও কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোলা সদরের ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ অডিটোরিয়ামে এই মেলার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এর উদ্যোগে এবং ইউনিসেফ ও কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)’র সহযোগিতায় এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় সভাপতিত্ব করেন ইএসডিও’র এএলপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ও হেড অব টিভেট মো. শাহরিয়ার মাহমুদ এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার জিনাত আরা বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোইকা’র ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. হিউন উ ইয়াং, ইউনিসেফ বরিশাল বিভাগের চিফ ফিল্ড অফিসার মো. কাওসার হোসেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ভোলার উপ-পরিচালক মো. রুহুল আমিন। এছাড়াও ইউনিসেফ, কোইকা ও ইএসডিও’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএসডিও’র বাস্তবায়নে ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত অল্টারনেটিভ লার্নিং প্রোগ্রাম (এএলপি) প্রকল্পটি ভোলাসহ দেশের চারটি জেলায় চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের কারিগরি ও অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow