ভ্রমণ ফি বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটকের সংখ্যা আরও কমতে পারে

21 hours ago 6

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের ওপর নতুন করে ২৫০ ডলার ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি আরোপ করা হয়েছে, যা দেশটির ভঙুর ভ্রমণ শিল্পের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি ও বিভিন্ন দেশের প্রতি তার নেতিবাচক মনোভাবের কারণে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটকের আগমন কমে গেছে।

মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটকের আগমন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.১ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯২ লাখে নেমে এসেছে। চলতি বছরে এই নিয়ে টানা পাঁচ মাস পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল যে, ২০২৫ সালে বার্ষিক বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা মহামারির পূর্ববর্তী ৭ কোটি ৯৪ লাখের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে নতুন এই ভিসা ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, ভারত, ব্রাজিল এবং চীনসহ যেসব দেশের নাগরিকদের ভিসা ওয়েভার নেই, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি বাড়তি বাধা তৈরি করবে। ইউ.এস. ট্র্যাভেল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই অতিরিক্ত ফি যোগ হওয়ায় মোট ভিসা খরচ বেড়ে ৪৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ভ্রমণ ভিসা ফি।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা সংস্থা অলটুর-এর প্রেসিডেন্ট গেব রিজি বলেন, ভ্রমণ অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে আমরা যত বেশি জটিলতা যোগ করবো, ভ্রমণের পরিমাণ ততটাই কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার পর এটি আরও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তখন আমাদের ভ্রমণ বাজেট এবং নথিপত্রে এই ফি-গুলো যুক্ত করতে হবে।

ওয়ার্ল্ড ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের অনুমান অনুযায়ী, এই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের খরচ ১৬৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসবে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৮১ বিলিয়ন ডলার।

এই নতুন ভিসা ফি ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন করছে। তার অভিবাসন নীতি, বিদেশি সহায়তা হ্রাস এবং কঠোর শুল্ক ব্যবস্থা দেশটির আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে, যদিও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের মতো বড় ইভেন্টগুলো সামনে রয়েছে।

এর আগে, আগস্টের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন একটি পাইলট প্রকল্পের ঘোষণা দেয়। এই প্রকল্প অনুযায়ী, কিছু পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার জন্য ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এই প্রকল্পটি ২০ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে প্রায় এক বছর ধরে চলবে, যার উদ্দেশ্য হলো যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

Read Entire Article