ভ্রমণে যাচ্ছেন? ডেঙ্গুর মৌসুমে যেসব সতর্কতা জরুরি

বর্ষাকাল মানেই অনেকের কাছে ভ্রমণের মৌসুম। পাহাড়ে মেঘের খেলা, সবুজে মোড়া চা-বাগান, নদীর সৌন্দর্য কিংবা সমুদ্রের ঢেউ-প্রকৃতি যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। স্কুল-কলেজের ছুটি, সরকারি ছুটি কিংবা সপ্তাহান্তের সুযোগে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেন অনেকে। কিন্তু এই সময়টিই ডেঙ্গুর মৌসুম। বর্ষায় বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যায়। ফলে শহর হোক কিংবা পর্যটনকেন্দ্র-যেকোনো স্থানেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই ভ্রমণের আনন্দ যেন অসুস্থতায় ম্লান না হয়, সে জন্য কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। আরও পড়ুন প্রতিদিন ১০ মিনিটের অভ্যাসেই কমতে পারে ডেঙ্গুর ঝুঁকি ডেঙ্গুর ঝুঁকি শুধু নিজের শহরে নয় অনেকেই মনে করেন, বাড়ির বাইরে গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কম। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টোও হতে পারে।ভ্রমণের সময় আমরা হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। নতুন পরিবেশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেখানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা হয় কি না-এসব সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকে না। ফলে অজান্তেই এডিস মশার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ভ্রমণ মানেই ব

ভ্রমণে যাচ্ছেন? ডেঙ্গুর মৌসুমে যেসব সতর্কতা জরুরি

বর্ষাকাল মানেই অনেকের কাছে ভ্রমণের মৌসুম। পাহাড়ে মেঘের খেলা, সবুজে মোড়া চা-বাগান, নদীর সৌন্দর্য কিংবা সমুদ্রের ঢেউ-প্রকৃতি যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। স্কুল-কলেজের ছুটি, সরকারি ছুটি কিংবা সপ্তাহান্তের সুযোগে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেন অনেকে।

কিন্তু এই সময়টিই ডেঙ্গুর মৌসুম। বর্ষায় বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যায়। ফলে শহর হোক কিংবা পর্যটনকেন্দ্র-যেকোনো স্থানেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই ভ্রমণের আনন্দ যেন অসুস্থতায় ম্লান না হয়, সে জন্য কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

ডেঙ্গুর ঝুঁকি শুধু নিজের শহরে নয়

অনেকেই মনে করেন, বাড়ির বাইরে গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কম। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টোও হতে পারে।ভ্রমণের সময় আমরা হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। নতুন পরিবেশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেখানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা হয় কি না-এসব সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকে না। ফলে অজান্তেই এডিস মশার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ভ্রমণ মানেই বাড়তি সচেতনতা।

কোথায় থাকছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের সময় শুধু ভাড়া বা সুযোগ-সুবিধা নয়, পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিন। কক্ষে ঢোকার পর খেয়াল করুন- জানালায় মশার জালি আছে কি না। ঘরে মশার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে কি না। বারান্দা বা ছাদে কোথাও পানি জমে আছে কি না। বাথরুম পরিষ্কার কি না। আশপাশে অব্যবহৃত পাত্র বা টায়ারে পানি জমে আছে কি না। যদি অতিরিক্ত মশা দেখা যায়, তাহলে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলুন।

দিনের বেলায়ও সতর্ক থাকুন

ডেঙ্গু ছড়ানো এডিস মশা সাধারণত সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে মশারি টাঙালেই দায়িত্ব শেষ নয়। ভ্রমণের সময়- পূর্ণহাতা জামা পরুন। লম্বা প্যান্ট পরার চেষ্টা করুন।হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন। শিশুদের হাত-পা যতটা সম্ভব ঢেকে রাখুন।

বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, বনাঞ্চল বা সবুজ পরিবেশে দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া জরুরি।

সঙ্গে রাখুন মশা প্রতিরোধের সামগ্রী

  • মশা প্রতিরোধক লোশন বা স্প্রে
  • শিশুদের উপযোগী রিপেলেন্ট (প্রয়োজন হলে)
  • বৈদ্যুতিক মশা প্রতিরোধক যন্ত্র (যদি ব্যবহার করা সম্ভব হয়)
  • হালকা ভ্রমণ উপযোগী মশারি (বিশেষ করে গ্রামীণ বা ক্যাম্পিং ভ্রমণে)

তবে রিপেলেন্ট ব্যবহারের আগে নির্দেশিকা পড়ে নিন এবং শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী উপযোগী পণ্য ব্যবহার করুন।

বাইরে বসে খাওয়া বা আড্ডায় সতর্কতা

অনেক পর্যটনকেন্দ্রে খোলা পরিবেশে বসে খাবার খাওয়া বা সন্ধ্যায় আড্ডা দেওয়ার প্রবণতা থাকে। এ সময় মশা বেশি থাকলে সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করবেন না। প্রয়োজনে রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।শিশুদের মাটিতে দীর্ঘ সময় খেলতে দেবেন না, যদি আশপাশে মশার উপদ্রব থাকে।

পানি জমতে দেবেন না

দীর্ঘ ভ্রমণে থাকলে হোটেলের বারান্দা বা কটেজের আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, খেয়াল করুন। নিজের ব্যবহৃত পানির বোতল, প্লাস্টিকের কাপ ও খাবারের পাত্র ব্যবহারের পর এমনভাবে ফেলুন বা রাখুন, যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে।

শরীর খারাপ হলে অবহেলা নয়

ভ্রমণের সময় অনেকেই জ্বরকে ক্লান্তি বা আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব মনে করে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু যদি হঠাৎ জ্বর আসে, তীব্র মাথাব্যথা হয়, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা শুরু হয়, বমিভাব বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয়- তাহলে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে যান।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

গরম, হাঁটাহাঁটি এবং ভ্রমণের ক্লান্তিতে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। ডেঙ্গু হলে এই সমস্যা আরও বাড়ে। তাই নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন (প্রয়োজনে), ডাবের পানি, লেবুর শরবত পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

পরিবারে শিশু, প্রবীণ বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কেউ থাকলে ভ্রমণের সময় আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ক্ষেত্রে- মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। নিয়মিত পানি পান করান। জ্বর বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

ফিরে এসেও সতর্ক থাকুন

অনেকেই ভ্রমণ শেষে কয়েক দিন পর জ্বরে আক্রান্ত হন। ডেঙ্গুর উপসর্গ সাধারণত মশার কামড়ের কয়েক দিনের মধ্যে দেখা দিতে পারে। তাই ভ্রমণ শেষে যদি জ্বর আসে, চিকিৎসককে অবশ্যই জানান যে আপনি সম্প্রতি ভ্রমণ করেছিলেন। এতে রোগ নির্ণয় সহজ হতে পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

সরকারি উদ্যোগ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কিংবা মশকনিধন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই। ভ্রমণে নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবার ও সহযাত্রীদেরও সচেতন রাখুন। কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না। মনে রাখবেন, একটি ছোট অসাবধানতা পুরো ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট করে দিতে পারে।

ভ্রমণ মানেই আনন্দ, নতুন অভিজ্ঞতা আর স্মৃতির ঝুলি ভরে ফেরা। কিন্তু সেই আনন্দ যেন ডেঙ্গুর কারণে বিষাদে পরিণত না হয়, সেদিকে নজর রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। সচেতন থাকুন, নিরাপদে ভ্রমণ করুন আর সুস্থ শরীরে উপভোগ করুন প্রকৃতির সৌন্দর্য।

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow