ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত দুই কোটি টাকার জালের হিসেবে গরমিল

নরসিংদীর মাধবদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকার মাছ ধরার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু জব্দের পর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার আলামত দেখানো হয়েছে মাত্র কয়েক লাখ টাকার। এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে থাকা নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, জব্দ করা জালের মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। আর সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা ভাষ্য, জব্দকৃত জালের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। এই দুই কর্মকতার কথার মধ্যেই জালের মূল্যের ব্যবধান ৫০ লাখ টাকা।  অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন বলছেন, কোটি টাকার জাল জব্দ করে আগুনে পোড়ানো হয়েছে মাত্র কয়েক লাখ টাকার জাল। বাকি টাকার জাল কোথায়, তার কোনো হদিস নেই।   সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধবদী পৌর প্রশাসক আসমা জাহান সরকার সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে মাধবদী বাজার থেকে আনুমানিক দুই কোটি টাকার মাছ ধরার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছেন। কিন্তু জব্দ করার এক দিন না যেতেই এই কোটি টাকার জালের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ঘটনার দিন সকালে জব্দ করার পর দুপুরের দিকে মাধবদীর মদনগঞ্জ সড়কে

ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত দুই কোটি টাকার জালের হিসেবে গরমিল

নরসিংদীর মাধবদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকার মাছ ধরার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু জব্দের পর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার আলামত দেখানো হয়েছে মাত্র কয়েক লাখ টাকার। এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে থাকা নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, জব্দ করা জালের মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। আর সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা ভাষ্য, জব্দকৃত জালের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। এই দুই কর্মকতার কথার মধ্যেই জালের মূল্যের ব্যবধান ৫০ লাখ টাকা। 

অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন বলছেন, কোটি টাকার জাল জব্দ করে আগুনে পোড়ানো হয়েছে মাত্র কয়েক লাখ টাকার জাল। বাকি টাকার জাল কোথায়, তার কোনো হদিস নেই।  

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধবদী পৌর প্রশাসক আসমা জাহান সরকার সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে মাধবদী বাজার থেকে আনুমানিক দুই কোটি টাকার মাছ ধরার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছেন। কিন্তু জব্দ করার এক দিন না যেতেই এই কোটি টাকার জালের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ঘটনার দিন সকালে জব্দ করার পর দুপুরের দিকে মাধবদীর মদনগঞ্জ সড়কের পাশে কিছু জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছেন। 
কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, যে পরিমাণ জাল পোড়ানো হয়েছে সেগুলো সর্বোচ্চ দেড়-দুই লাখ টাকার হবে। কিন্তু কোটি টাকা মূল্যের জালগুলো জব্দ করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসার নিজেই বলেছেন আনুমানিক দুই কোটি টাকার জাল জব্দ করা হয়েছে। অথচ স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, যে পরিমাণ জাল জব্দ করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ পোড়ানো হয়নি। পোড়ানো হয়েছে যৎসামান্য কিছু পুরোনো জাল। যার মূল্য সর্বোচ্চ এক-দেড় লাখ টাকার। তাহলে বাকি টাকার জাল কোথায় গেল, এমন প্রশ্ন এখন জনমনে।  

কিন্তু জনমনের এসব প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জব্দ করা সব জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। কোনো অবশিষ্ট আর নেই। 

অন্যদিকে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান জানান, জব্দ করা জালের মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। আর এসব জাল পোড়ানোর স্থান নির্বাচনের সময় কয়েকবার জায়গা পরিবর্তন হয়েছে। আর এ বারবার স্থান পরিবর্তনের কারণে কিছু জাল মিসিং হতে পারে বলে আমার ধারণা।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোমবার সকালে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী সদর উপজেলার ইউএনওর নেত্বত্বে মাধবদী বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়। সেখান থেকে আনুমানিক দুই কোটি টাকার মাছ ধরার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছেন। এসব জাল জব্দ করার পরপরই ইউএনও মাধবদী বাজারেই সাংবাদিকদের সঙ্গে এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়ে ব্রিফিং দেন। ওই ব্রিফিংয়ে তিনি জানিয়েছেন, বিপুল নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। এসব অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রচলিত মৎস্য আইন অনুযায়ী দুজন জাল বিক্রেতাকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই ব্রিফিং দেওয়ার পর মাধবদী বাজারের পার্শ্ববর্তী মদনগঞ্জ সড়কের পাশে কিছু পুরোনো জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় দুই কোটি টাকার জাল জব্দ করে পোড়ানো হয়েছে মাত্র কয়েক লাখ টাকার। বাকি টাকার জাল কোথায় গেল? এমন প্রশ্ন এখন মাধবদী এলাকার মানুষের মুখে মুখে।

জাল পোড়ানোর সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে আশিকুর রহমান নামে একজন বলেন, ইউএনও বলেছেন প্রায় দুই কোটি টাকার জাল জব্দ করেছেন। আর মদনগঞ্জ সড়কের পাশে ছোট ছোট কয়েকটি ভ্যানগাড়ি দিয়ে অল্প কিছু পুরোনো জাল আনা হয়েছে এবং সেগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু যে পরিমাণ জাল পোড়ানো হয়েছে তার মূল্য কোনো অবস্থাতেই দুই লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে উদ্ধার হওয়া এত বিপুল জাল কোথায় গেল। সেগুলো কি কোনো কালো বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। প্রতি মিটার কারেন্ট জালের মূল্য ৩০ টাকা, সে হিসেবে দেড় কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৪৮০টি রিং জাল জব্দ করা হয়। প্রতিটি রিং জালের মূল্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা, সে হিসেবে প্রায় ১৭ লাখ টাকার রিং জাল জব্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধবদী পৌর প্রশাসক আসমা জাহান সরকার বলেন, আমার সংরক্ষণে কোনো জাল আর নেই, জব্দ করা সব জালই পোড়ানো হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা তো এ জালগুলোর দাম সম্পর্কে জানেন না। মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমেই জব্দ ও মূল্য তালিকা করা হয়েছে। এখানে কোনো সমস্যা নেই।

নরসিংদী সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান বলেন, ৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ৪৮০ পিস রিং জাল জব্দ করা হয়েছে। আমাদের হেফাজতে কোনো জাল নেই। জব্দ করা সব জালই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জনবহুল এলাকা থেকে একটু দূরে এনে জালগুলো পোড়ানো হয়েছে। যাতে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি না হয়। তবে পোড়ানোর আগে বারবার স্থান পরিবর্তনের কারণে কিছু জাল মিসি হয়েছে বলে আমারও ধারণা। জালগুলো পুড়ানোর সময় আমি ব্যাপারটা প্রত্যক্ষ করেছি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow