মঞ্চে ফিরেই দর্শকদের মন জয় করল ‘রাজার চিঠি’

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় পর আবারও মঞ্চের আলোয় ফিরল জাগরণী থিয়েটারের দর্শকপ্রিয় প্রযোজনা ‘রাজার চিঠি’। শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মঞ্চস্থ এই প্রদর্শনী দুটিকে কেন্দ্র করে নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় নাটকের প্রত্যাবর্তন যেন শিল্পকলা প্রাঙ্গণে এক পশলা নস্টালজিয়া আর স্বস্তির আমেজ নিয়ে আসে। নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক চিঠির প্রেক্ষাপটে। ১৯৩৯ সালে শাহজাদপুরের শ্রী হরিদাস বসাক নামক এক যুবক রবীন্দ্রনাথকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো রবীন্দ্রনাথ সেই চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন। এই একটি প্রাপ্তি হরিদাস বসাকের জীবনকে আমূল বদলে দেয়। রবীন্দ্রসাহিত্যের আদর্শে প্রাণিত হয়ে তার চালচলন হয়ে ওঠে কবিগুরুর অমর সৃষ্টি ‘ঠাকুরদা’ চরিত্রের মতো। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের চরম অস্থিরতার সময়েও হরিদাস বসাক নিজের জন্মমাটি ছেড়ে যাননি শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথের চিঠির সেই ঠিকানাটি বদলে যাবে এই আশঙ্কায়। কাহিনির মোড় ঘোরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তি

মঞ্চে ফিরেই দর্শকদের মন জয় করল ‘রাজার চিঠি’

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় পর আবারও মঞ্চের আলোয় ফিরল জাগরণী থিয়েটারের দর্শকপ্রিয় প্রযোজনা ‘রাজার চিঠি’। শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মঞ্চস্থ এই প্রদর্শনী দুটিকে কেন্দ্র করে নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় নাটকের প্রত্যাবর্তন যেন শিল্পকলা প্রাঙ্গণে এক পশলা নস্টালজিয়া আর স্বস্তির আমেজ নিয়ে আসে।

নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক চিঠির প্রেক্ষাপটে। ১৯৩৯ সালে শাহজাদপুরের শ্রী হরিদাস বসাক নামক এক যুবক রবীন্দ্রনাথকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো রবীন্দ্রনাথ সেই চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন। এই একটি প্রাপ্তি হরিদাস বসাকের জীবনকে আমূল বদলে দেয়। রবীন্দ্রসাহিত্যের আদর্শে প্রাণিত হয়ে তার চালচলন হয়ে ওঠে কবিগুরুর অমর সৃষ্টি ‘ঠাকুরদা’ চরিত্রের মতো। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের চরম অস্থিরতার সময়েও হরিদাস বসাক নিজের জন্মমাটি ছেড়ে যাননি শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথের চিঠির সেই ঠিকানাটি বদলে যাবে এই আশঙ্কায়।

কাহিনির মোড় ঘোরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। যুদ্ধের ভয়াবহতায় ঘরবাড়ি পুড়ে ছারখার হয়ে গেলে হরিদাস বসাক নিজের আত্মজনের চেয়েও বেশি হাহাকার করেন সেই মহামূল্যবান চিঠিটির জন্য। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তার আকুতি প্রকাশ করে শিল্পের প্রতি মানুষের প্রগাঢ় ভালোবাসাকে। মাহফুজা হিলালী রচিত ও দেবাশীষ ঘোষ নির্দেশিত জাগরণী থিয়েটারের ১৫তম এই প্রযোজনাটি মূলত ইতিহাস ও মানবিক আবেগের এক অনন্য মেলবন্ধন।

নাটকটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাট্যজন স্মরণ সাহা। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অনিকেত পাল, শাহানা জাহান সিদ্দিকা, শাহানাজ শারমিন খান শিমু ও জুলিয়েট সুপ্রিয়ার অভিনয় ছিল অত্যন্ত সাবলীল ও হৃদয়স্পর্শী। আবার অনিকেত পাল বাবুর কোরিওগ্রাফি, রামিজ রাজুর সংগীত এবং ঠান্ডু রায়হানের আলোক নিয়ন্ত্রণ মঞ্চে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। এনাম তারা সাকীর পোশাক পরিকল্পনা চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তোলে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মঞ্চে ফিরে ‘রাজার চিঠি’ এটিই প্রমাণ করল যে মানসম্মত জীবনমুখী নাটকের আবেদন দর্শকদের কাছে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow