মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারে ১০ গ্রাম প্লাবিত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা পাঁচ দিনের বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, সাগরে নিম্নচাপের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে দমকা বাতাসের সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনভর উপকূলজুড়ে এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত ছিল। টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের তোড়ে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আঙিনা পানিতে ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরের ভেতরেও দুই থেকে তিন ফুট পানি প্রবেশ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে কাজের সন্ধানে বের হতে না পারায় অনেক পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। বহু ঘরের রান্নার চুলা পানিতে ডুবে যাওয়ায় চুলায় আগুন জ্বলছে না। ফলে এক প্রকার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজিরহাট ইউনিয়নের চর
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা পাঁচ দিনের বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, সাগরে নিম্নচাপের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে দমকা বাতাসের সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনভর উপকূলজুড়ে এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত ছিল। টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের তোড়ে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আঙিনা পানিতে ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরের ভেতরেও দুই থেকে তিন ফুট পানি প্রবেশ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে কাজের সন্ধানে বের হতে না পারায় অনেক পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। বহু ঘরের রান্নার চুলা পানিতে ডুবে যাওয়ায় চুলায় আগুন জ্বলছে না। ফলে এক প্রকার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান; সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া ও মাস্টারহাট; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিরপাড় গ্রামের অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে রয়েছে। এরমধ্যে হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাসেরহাট এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নাজুক।
দাসেরহাট এলাকার বাসিন্দা মফিজ মিস্ত্রি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে আমরা ডুবে আছি। কিন্তু স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ এখনো আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি।
এদিকে, ভোররাতের জোয়ারে উপজেলার বেড়িবাঁধহীন চরকলাতলী ইউনিয়নের কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্নাঞ্চল দুই থেকে তিন ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভুক্তভোগী বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা বলেন, পানি সরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আশা করছি দ্রুত পানি নেমে যাবে।
পানিবন্দি মানুষের জরুরি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ের কারণে বর্তমানে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা নতুন করে বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ এলেই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, মেঘনা নদীতে ভাটার সময় পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বিকেলের জোয়ারে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মনপুরা উপকূলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।