মহাদেবপুরে লাঠির ঝংকারে ফিরলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্য
নববর্ষ ঘিরে নওগাঁর মহাদেবপুরে জমে ওঠে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সরস্বতীপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই খেলায় অংশ নেয় চারটি দল। স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ খেলা ঘিরে সেখানে বসে এক প্রাণবন্ত গ্রামীণ মেলা, যা উপভোগ করেন নানা বয়সি মানুষ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ-৩ আসনের (বদলগাছী-মহাদেবপুর) সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। একসময় গ্রামীণ মানুষের অন্যতম বিনোদন ছিল লাঠি খেলা। সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। হারিয়ে যেতে বসা এই খেলাকে আবারও মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। খেলায় খেলোয়াড়রা রঙিন পোশাকে লাঠির নানা কসরত ও নান্দনিক ভঙ্গিমা প্রদর্শন করেন। ঢোল ও কাঁসার তালে তালে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। এ খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা ভিড় জমান। নওহাটা গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, লাঠিখেলা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। যুব সমাজও এখন খেলাবিমুখ হয়ে মোবাইল ও মাদকে আসক্
নববর্ষ ঘিরে নওগাঁর মহাদেবপুরে জমে ওঠে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সরস্বতীপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই খেলায় অংশ নেয় চারটি দল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ খেলা ঘিরে সেখানে বসে এক প্রাণবন্ত গ্রামীণ মেলা, যা উপভোগ করেন নানা বয়সি মানুষ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ-৩ আসনের (বদলগাছী-মহাদেবপুর) সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল।
একসময় গ্রামীণ মানুষের অন্যতম বিনোদন ছিল লাঠি খেলা। সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। হারিয়ে যেতে বসা এই খেলাকে আবারও মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। খেলায় খেলোয়াড়রা রঙিন পোশাকে লাঠির নানা কসরত ও নান্দনিক ভঙ্গিমা প্রদর্শন করেন। ঢোল ও কাঁসার তালে তালে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। এ খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা ভিড় জমান।
নওহাটা গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, লাঠিখেলা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। যুব সমাজও এখন খেলাবিমুখ হয়ে মোবাইল ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। শরীর ও মন সুস্থ রাখতে এবং যুব সমাজকে খেলার প্রতি আগ্রহী এসব আয়োজনের কোনো বিকল্প নাই।
কুশলবাড়ি গ্রামের খেলোয়াড় দলনেতা বাবুল বলেন, আশির দশক থেকে দল গঠন করে খেলা করা হচ্ছে। সেসময় বিভিন্ন গ্রাম থেকে খেলার ডাক আসতো। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কর্মব্যস্ততায় খেলোয়াড়দের সংখ্যা কমেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে এ খেলা। তারপরও ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, প্রতিটি গ্রামীণ খেলার ঐতিহ্য আছে। কিন্তু গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই খেলাগুলো আবারও ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রামীণ খেলা সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্ম জানুক ও দেখুক। সুস্থ ধারায় নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠুক।
এসময় অন্যদের মধ্যে নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর-ই-আলম মিঠু ও খাইরুল আলম গোল্ডন, ভীমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ ভদ্রসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরমান হোসেন রুমন/এফএ/এমএস
What's Your Reaction?