‘মাগো দুটা কথা কমু, আর কথা কমু না, আগুনে পুড়ে যাচ্ছি’
‘কালকে মেজো ব্যাটার সাথে সকালে কথা কইছি। সে বলল, ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও। তুমি সুস্থ থাকো। ভাই জিনিসপত্র দিতে গেছে, দিয়ে আসবে। যখন আগুন লাগছে, তখনও ফায়ার সার্ভিস আসছিল না। তখন ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। দিয়ে বলে, মাগো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না। আগুন লেগে পুড়ে মরে যাচ্ছি মা।’
আহাজারি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সুমন ও মোহনের মা ময়না খাতুন। বাবা-মায়ের বুকে এখন শুধু নিহত ছেলেদের ছবি। দুই ছেলেকে হারিয়ে তারা এখন পাগলপ্রায়। তাদের বিলাপ আর আহাজারি যেন থামছে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন এবং সুমনদের বাড়িতে শোকের মাতম বিরাজ করছে। এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই ভাই নিহত হন। এছাড়া এ গ্রামের আরও দুজন এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
ময়না খাতুন বলেন, বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনো দিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলছিল- ‘মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কা
‘কালকে মেজো ব্যাটার সাথে সকালে কথা কইছি। সে বলল, ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও। তুমি সুস্থ থাকো। ভাই জিনিসপত্র দিতে গেছে, দিয়ে আসবে। যখন আগুন লাগছে, তখনও ফায়ার সার্ভিস আসছিল না। তখন ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। দিয়ে বলে, মাগো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না। আগুন লেগে পুড়ে মরে যাচ্ছি মা।’
আহাজারি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সুমন ও মোহনের মা ময়না খাতুন। বাবা-মায়ের বুকে এখন শুধু নিহত ছেলেদের ছবি। দুই ছেলেকে হারিয়ে তারা এখন পাগলপ্রায়। তাদের বিলাপ আর আহাজারি যেন থামছে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন এবং সুমনদের বাড়িতে শোকের মাতম বিরাজ করছে। এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই ভাই নিহত হন। এছাড়া এ গ্রামের আরও দুজন এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
ময়না খাতুন বলেন, বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনো দিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলছিল- ‘মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করব।’ আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কি সর্বনাশ হলো বাবা আমার।
তিনি আরও বলেন, বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে...। মোহন বলতেছিল- ‘এসে বিয়া করমু মা- মেয়া দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।’
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গাফফফার প্রামাণিকের ছেলে মহন প্রামানিক ও সুমন প্রামানিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।