মাটির নিচ থেকে ভেসে আসছে অদ্ভুত শব্দ

প্রতিদিনের মতো সকালে গরু নিয়ে নিজ জমিতে ঘাস খাওয়াতে গিয়েছিলেন প্রান্তিক কৃষক। কিন্তু চিরচেনা জায়গায় হঠাৎই শুনতে পান এক আজব শব্দ। একটু কাছে যেতেই বুঝতে পারেন মাটির নিচ থেকেই ভেসে আসছে বিকট আওয়াজ। যা আগে কখনও এখানে শোনেননি তিনি।  খানিকটা ধীর হয়ে বসেও কোনো কিছুই আন্দাজ করতে পারছিলেন না। পরে বাড়িতে ফিরে সবার সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেন তিনি। আজব এমন খবর শুনে বেলা বাড়তেই মাঠের শব্দ শুনতে জড়ো হন উৎসুক জনতা। আর উপজেলা প্রশাসন বলছে জনতার প্রত্যাশানুযায়ী সার্ভের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালীয়াতলী ইউপির বড় পাড়া গ্রামের আশোক আলী মৃধা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৭ টার দিকে নিজ জমিতে গরু চরাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সকালে নিজের দু কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলন না। কয়েক দশক ধরে চিরচেনা স্থানেই আজ মাটির তলদেশ থেকে ভেসে আসা শব্দে কিংকর্তব্যবিমূঢ় তিনি। তাই অন্যদের ডেকে দেখালেন কি এমন রয়েছে মাটির নিচে তার চাষের জমিতে।  এখানেই শেষ নয়, এর পরে কোদাল দিয়ে পরীক্ষা করতেই শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। আর মাঠের আশপাশ থেকেও বের হতে থাকে বুঁদ বুঁদ লাগাতার একই রকম শব্দ।

মাটির নিচ থেকে ভেসে আসছে অদ্ভুত শব্দ

প্রতিদিনের মতো সকালে গরু নিয়ে নিজ জমিতে ঘাস খাওয়াতে গিয়েছিলেন প্রান্তিক কৃষক। কিন্তু চিরচেনা জায়গায় হঠাৎই শুনতে পান এক আজব শব্দ। একটু কাছে যেতেই বুঝতে পারেন মাটির নিচ থেকেই ভেসে আসছে বিকট আওয়াজ। যা আগে কখনও এখানে শোনেননি তিনি। 

খানিকটা ধীর হয়ে বসেও কোনো কিছুই আন্দাজ করতে পারছিলেন না। পরে বাড়িতে ফিরে সবার সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেন তিনি। আজব এমন খবর শুনে বেলা বাড়তেই মাঠের শব্দ শুনতে জড়ো হন উৎসুক জনতা। আর উপজেলা প্রশাসন বলছে জনতার প্রত্যাশানুযায়ী সার্ভের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালীয়াতলী ইউপির বড় পাড়া গ্রামের আশোক আলী মৃধা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)
সকাল ৭ টার দিকে নিজ জমিতে গরু চরাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সকালে নিজের দু কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলন না। কয়েক দশক ধরে চিরচেনা স্থানেই আজ মাটির তলদেশ থেকে ভেসে আসা শব্দে কিংকর্তব্যবিমূঢ় তিনি। তাই অন্যদের ডেকে দেখালেন কি এমন রয়েছে মাটির নিচে তার চাষের জমিতে। 

এখানেই শেষ নয়, এর পরে কোদাল দিয়ে পরীক্ষা করতেই শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। আর মাঠের আশপাশ থেকেও বের হতে থাকে বুঁদ বুঁদ লাগাতার একই রকম শব্দ। তাই এখন স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহের দানা বেঁধেছে কি আছে মাটির তলদেশে ক? খনিজ সম্পদ, নাকি প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষণির উপস্থিতি। এনিয়েই সবার মনেই এখন একই কৌতূহল। নাকি মাটির নিচ ভেঙে পড়বে এমনই অজানা আতঙ্কে ভুগছেন বড় পাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। এমনকি আতঙ্কিত হয়ে পুলিশের জরুরি সেবা নম্বরেও কল করেন গ্রামবাসীরা।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি মাঠের মধ্যে ভিড় করে আছেন প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ। কেউ কোদাল হাতে মাটি খুঁড়ছেন, আবার কেউ খোঁড়া গর্ত থেকে পানি বা মাটি শুঁকছেন। সবারই কৌতূহল কী আছে মাটির নিচে। 

জমির মালিক আশোক আলি কালবেলাকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে এখানে এসে প্রথমে ভয় পেয়েছি। পরে লোকজন ডেকে এনেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। প্রথমে ভয় পেলেও তার সন্দেহ মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের খনি রয়েছে। 

স্থানীয় আবদুর রশিদ মৃধা কালবেলাকে বলেন, খবর পেয়ে মাঠে এসে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ভেতরে কি আছে দেখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু মাটি কাঁটার সময় নিচ থেকে আরও জোরে বিকট শব্দ বের হতেই আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু দু'দিন পর পানি জমে এখানে শব্দ বন্ধ হয়ে আবার আর এক জায়গায় শব্দ শুরু হয়েছে। 

স্থানীয় সচেতন নাগরিক নওয়াব আলী কালবেলাকে বলেন, গত দু-দিন ধরে এখানে আজব শব্দের কারণে অনেক মানুষ আতঙ্কিত। তাই আমি পুলিশের জরুরি সেবা নম্বরে ফোন দেই।

তিনি বলেন, মাটির নিচে এমন শব্দ কোন স্বাভাবিক বিষয় নয়। তাই সরকারি ভাবে পরীক্ষা করে দেখার অনুরোধ জানান তিনি। একই দাবি উপস্থিত প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষের। 

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আল-আমিন গাজি কালবেলাকে বলেন, সাধারণত টপ সয়েলের কাছে প্রাকৃতিক গ্যাস থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। এটা মিথেন গ্যাসের উপস্থিতিও হতে পারে। তবে গ্যাস থাকা অসম্ভবের কিছু নয়। পাশেই ভোলাতে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাই পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা উচিত যে এখানে জীবাশ্ম জ্বালানির উপস্থিতি রয়েছে কিনা। 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসিন সাদিক কালবেলাকে বলেন, ওখানাকার মানুষের যে চাওয়া সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। যদি প্রাকৃতিক জীবাশ্ম জ্বালানির কোন অস্তিত্ব আছে কিনা এ বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশানুযায়ী অধিকতর সার্ভে হতে পারে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় অবহিত করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow