মাত্র আড়াই মাসেই মাকে হারায় শিশু সুয়াইবা
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দিনটি ছিল বিভীষিকাময়। ওইদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান গার্মেন্টস কর্মী সুমাইয়া (২০)। ওই সময় তার সন্তান সুয়াইবার বয়স ছিল মাত্র আড়াই মাস। মা-হারা শিশুটি বর্তমানে বাবার আদর-সোহাগ থেকেও বঞ্চিত। শিশুটির বাবা জীবিত থাকা সত্ত্বেও মেয়ের খোঁজখবর নেন না বলে জানিয়েছে শহীদ সুমাইয়ার পরিবার। তাই নানি-মামা আর খালার কোলে বড় হচ্ছে সে। আরও পড়ুন ফিরে দেখা ১৬ জুলাই: ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস পায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুমাইয়া পেশায় গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন। তার স্বামী জাহিদ ও আড়াই মাসের কন্যা সুয়াইবাকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতা যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করে যাচ্ছিল, তখন নিজ বাড়ি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। মায়ের বাড়িতে তার অবস্থানকালে ছাত্র-জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা। শিশু সুয়াইবা/ছবি-জাগো নিউজ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দিনটি ছিল বিভীষিকাময়। ওইদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান গার্মেন্টস কর্মী সুমাইয়া (২০)। ওই সময় তার সন্তান সুয়াইবার বয়স ছিল মাত্র আড়াই মাস।
মা-হারা শিশুটি বর্তমানে বাবার আদর-সোহাগ থেকেও বঞ্চিত। শিশুটির বাবা জীবিত থাকা সত্ত্বেও মেয়ের খোঁজখবর নেন না বলে জানিয়েছে শহীদ সুমাইয়ার পরিবার। তাই নানি-মামা আর খালার কোলে বড় হচ্ছে সে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুমাইয়া পেশায় গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন। তার স্বামী জাহিদ ও আড়াই মাসের কন্যা সুয়াইবাকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতা যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করে যাচ্ছিল, তখন নিজ বাড়ি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। মায়ের বাড়িতে তার অবস্থানকালে ছাত্র-জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা।
শিশু সুয়াইবা/ছবি-জাগো নিউজ
২০ জুলাই বিকেলে বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে প্রশাসনের সংঘর্ষ হচ্ছিল। ওই সময় নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় মায়ের বসবাসরত ভবনের ছয়তলার ফ্ল্যাটে নিজের শিশু মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনের দৃশ্য দেখছিলেন সুমাইয়া। বারান্দায় দাঁড়ানোর কয়েক মিনিটের মাথায় আচমকা আকাশে উড়া হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া একটি গুলি ওই ফ্ল্যাটের বারান্দার গ্রিল ছিদ্র হয়ে তার মাথায় লাগে।
সঙ্গে সঙ্গে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সড়কেই তার মৃত্যু হয়।
কবে মিলবে সুবিচার
হত্যাকাণ্ডের দুই বছর হয়ে গেলেও আজও বিচার পায়নি সুমাইয়ার পরিবার। এ ঘটনায় স্বজনদের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশীরাও। আক্তার হোসেন নামের একজন বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গেছে কিন্তু বিচারের আশানুরূপ অগ্রগতি চোখে পড়েনি। আমাদের প্রত্যেকের চাওয়া দ্রুততম সময়ে মেয়েটার পরিবার বিচারটা পাক।’
সুমাইয়া হত্যার বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন তার বোন জান্নাত। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, “আমার বোনের মৃত্যুর পর তার মেয়েকে আমি আর আমার মা লালনপালন করছি। মেয়ে আমাকে ‘মা’ বলে ডাকেন। আমার চোখের সামনেই ছোট বোনটা চলে গেছে, এটা আমাদের কতটা কষ্ট দেয় তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া যেন আমার বোন হত্যার সঠিক বিচার আমরা পাই।”
দুই বছরেও মেয়ে হত্যার বিচার না পেয়ে আশাহত সুমাইয়ার মা আসমা বেগম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুুই বছরেও মেয়ে হত্যার বিচার পাইনি। কোনো অপরাধ না করেও আমার নিরপরাধ মেয়েটা মেরে ফেলল। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কেও আমরা কিছুই জানি না। মামলার তদন্তকারী কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কাছে আমি আমার সন্তান হত্যার বিচারটা যাই। সরকার যেন দ্রুততম সময়ে বিচার কার্যক্রম শেষ করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে। আমার এতিম নাতনিটারও যেন একটা ব্যবস্থা করে।’
এসআর
What's Your Reaction?

