মাত্র ১০-১৫ মিনিট নেগেটিভ খবর দেখলে মস্তিষ্কে যে প্রভাব পড়ে

স্মার্টফোন হাতে নিলেই একের পর এক খবর – ধর্ষণ, দুর্ঘটনা, সহিংসতা, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট। অনেকেই দিনের শুরু বা শেষ করেন এমন খবর দেখে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিয়মিত নেতিবাচক খবর দেখা কি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে? মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, মানুষের মস্তিষ্কে স্বাভাবিকভাবেই একটি নেগেটিভিটি বায়াস কাজ করে। অর্থাৎ ইতিবাচক তথ্যের তুলনায় নেতিবাচক তথ্য আমাদের মনোযোগ বেশি আকর্ষণ করে। ফলে বারবার নেতিবাচক খবর দেখলে মস্তিষ্ক সেটিকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে ধরে নেয় এবং শরীরকে সতর্ক অবস্থায় রাখে। কেন মস্তিষ্ক দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়? ভয় বা বিপদের সংকেত পেলে মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেম সক্রিয় হয়। বিশেষ করে অ্যামিগডালা অংশটি দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠায়। তখন শরীরে স্ট্রেস হরমোন অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল নিঃসৃত হয়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এমন প্রতিক্রিয়া মূলত বেঁচে থাকার প্রাচীন প্রবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আধুনিক সময়ে যখন প্রতিদিনই নেতিবাচক খবরের মুখোমুখি হতে হয়, তখন এই সতর্ক অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যেতে পারে। মাত্র অল্প সময়েও প্রভাব পড়তে পারে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র

মাত্র ১০-১৫ মিনিট নেগেটিভ খবর দেখলে মস্তিষ্কে যে প্রভাব পড়ে

স্মার্টফোন হাতে নিলেই একের পর এক খবর – ধর্ষণ, দুর্ঘটনা, সহিংসতা, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট। অনেকেই দিনের শুরু বা শেষ করেন এমন খবর দেখে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিয়মিত নেতিবাচক খবর দেখা কি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে?

মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, মানুষের মস্তিষ্কে স্বাভাবিকভাবেই একটি নেগেটিভিটি বায়াস কাজ করে। অর্থাৎ ইতিবাচক তথ্যের তুলনায় নেতিবাচক তথ্য আমাদের মনোযোগ বেশি আকর্ষণ করে। ফলে বারবার নেতিবাচক খবর দেখলে মস্তিষ্ক সেটিকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে ধরে নেয় এবং শরীরকে সতর্ক অবস্থায় রাখে।

কেন মস্তিষ্ক দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়?

ভয় বা বিপদের সংকেত পেলে মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেম সক্রিয় হয়। বিশেষ করে অ্যামিগডালা অংশটি দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠায়। তখন শরীরে স্ট্রেস হরমোন অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল নিঃসৃত হয়।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এমন প্রতিক্রিয়া মূলত বেঁচে থাকার প্রাচীন প্রবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আধুনিক সময়ে যখন প্রতিদিনই নেতিবাচক খবরের মুখোমুখি হতে হয়, তখন এই সতর্ক অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

মাত্র অল্প সময়েও প্রভাব পড়তে পারে

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট নেতিবাচক খবর দেখলেও মানুষের মেজাজে পরিবর্তন আসে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অতিরিক্ত আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

ডিজিটাল যুগে অনেকেই অবচেতনভাবে ডুমস্ক্রলিং করেন - অর্থাৎ একের পর এক খারাপ খবর স্ক্রল করে পড়তে থাকেন। নতুন তথ্য পাওয়ার সময় মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমে ডোপামিন নিঃসৃত হয়, ফলে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও মানুষ আরও খবর খুঁজতে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়ে?

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক খবরের সংস্পর্শে থাকলে বিষণ্নতা, সাধারণ উদ্বেগ এবং ট্রমা-সম্পর্কিত উপসর্গ বাড়তে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যখন মানুষ এমন সংকটের খবর বারবার শোনে যার ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তখন অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি হয়। এতে অনেকেই মনে করেন, পরিস্থিতি বদলানোর জন্য তাদের কোনো প্রচেষ্টাই কাজে আসবে না।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও কমতে পারে

অতিরিক্ত তথ্য ও নেতিবাচক খবর মস্তিষ্কে কগনিটিভ ফ্যাটিগ বা মানসিক ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। এতে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয় এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।

নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার ও জার্নাল অব অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারস-এ প্রকাশিত গবেষণা দেখা গেছে, অতিরিক্ত নেতিবাচক সংবাদ গ্রহণ মানুষের মানসিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে।

শরীরেও পড়ে প্রভাব

শুধু মন নয়, শরীরও এর প্রভাব অনুভব করে। দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় থাকে, ফলে কর্টিসল দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে।

এতে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, হজমের সমস্যা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, দুঃস্বপ্ন, মাথাব্যথা বা পেশীতে টানও দেখা দিতে পারে।

তাহলে কী করবেন?

খবর জানা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অতিরিক্ত নেতিবাচক সংবাদ গ্রহণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরি।

দিনের নির্দিষ্ট সময় খবর দেখার অভ্যাস করা যেতে পারে। ঘুমানোর আগে খবর দেখা এড়িয়ে চলা ভালো। পাশাপাশি ইতিবাচক কার্যকলাপ - যেমন হাঁটা, বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো - মস্তিষ্ককে ভারসাম্যে ফিরতে সাহায্য করে।

তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানসিক শান্তি তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। তাই খবর দেখার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার, জার্নাল অব অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারস

এএমপি/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow