মাদক ব্যবসার অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন স্বেচ্ছাসেবক দল

মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আব্দুল হালিম বাবু। রোববার (১৯ জুলাই) সাভারের আশুলিয়ার পল্লিবিদ্যুৎ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হালিম বাবু বলেন, আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। যারা আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা নিজেরাই প্রকৃতপক্ষে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখার কারণেই একটি চক্র তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যারা সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে বাড়ি থেকে মাদক ব্যবসা করতো, আমরা এলাকার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সেই ক্যামেরা ভেঙে দিয়েছি এবং মাদকের স্পটগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছি। এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়েই তারা এখন আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে ও অনলাইনে নানামুখী প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এমনকি কিছু ম

মাদক ব্যবসার অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন স্বেচ্ছাসেবক দল

মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আব্দুল হালিম বাবু। রোববার (১৯ জুলাই) সাভারের আশুলিয়ার পল্লিবিদ্যুৎ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হালিম বাবু বলেন, আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। যারা আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা নিজেরাই প্রকৃতপক্ষে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

তিনি দাবি করেন, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখার কারণেই একটি চক্র তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যারা সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে বাড়ি থেকে মাদক ব্যবসা করতো, আমরা এলাকার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সেই ক্যামেরা ভেঙে দিয়েছি এবং মাদকের স্পটগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছি। এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়েই তারা এখন আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে ও অনলাইনে নানামুখী প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এমনকি কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাকে ধরে এনে, মারধর করে জোরপূর্বক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা জবানবন্দির ভিডিও রেকর্ড করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাকে সাজানো হচ্ছে 'মাদক ব্যবসায়ী' আর ‘মাদক সম্রাট’। অথচ এই মাদকের সঙ্গে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, আমি কোনোভাবেই এর সঙ্গে জড়িত নই।

এই ষড়যন্ত্রের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যারা রয়েছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের লোক। আর আমি স্বেচ্ছাসেবক দল করি। দীর্ঘদিন রাজপথে বুক চিতিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি,এটাই কি তাহলে আমার অপরাধ? আমি এর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। যদি আমি বিন্দুমাত্র অপরাধী হই, তবে আমার বিচার আমি নিজেই মাথা পেতে নেব।

দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এই স্বেচ্ছাসেবক দল  নেতা বলেন, ‘যদি আমার কোনো অপরাধ থেকে থাকে, তবে তার দায়ভার আমার দল কেন নেবে? দলের ওপর দায় চাপানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আমার আসনের সংসদ সদস্য কিংবা ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মোহন ভাই,কারও কাঁধেই আমি এই দায় চাপাতে চাই না। যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, আমি একাই তার মুখোমুখি হবো। কিন্তু আমার কারণে দলের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হোক, তা আমি কখনোই হতে দেব না।’

বিগত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘গত ৩ ও ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় জাহাঙ্গীরনগর ও বাইপাইল মোড়ে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলাম। জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধাবোধ করিনি। সেদিন ভেবেছিলাম আমি হয়তো আর বেঁচে ফিরব না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের নেতা তারেক রহমান এবং প্রিয় বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য আমি রাজপথে মরতেও প্রস্তুত ছিলাম। দল থেকে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, কোনো লোভ-লালসা নেই। আমি যা কিছু করেছি, সব দলের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে করেছি। দল করা যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তবে আমাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।’

নিজের অর্থনৈতিক ও পারিবারিক অসচ্ছলতার চিত্র তুলে ধরে হালিম বাবু বলেন, ‘আজ আমাকে 'মাদক সম্রাট' বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে! আমি তো কেবল তৃণমূলের একজন সাধারণ কর্মী। একজন মানুষের মাদক সম্রাট হতে গেলে কী পরিমাণ সম্পদের প্রয়োজন হয়, তা তো আপনারা ভালো করেই জানেন। অথচ আমার নিজের বলতে কী আছে? আমার বাবা আমাকে মাত্র পাঁচ শতাংশ জায়গা দিয়ে গেছেন, যেখানে একটি পুরনো একতলা বাড়ি রয়েছে। এর বাইরে যদি কেউ আমার নামে এক শতাংশ জমিও প্রমাণ করতে পারে, আমি যেকোনো শাস্তি মেনে নেব। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমার নিজের নামে একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নেই।’

একটি বেসরকারি এনজিওর ঋণের মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আশা’ এনজিও থেকে আমি মাত্র এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে এখনও আদালতে মামলা চলছে। অথচ একজন সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন যে, আমি নাকি প্রতি মাসে ২৪ থেকে ৩৬ লাখ টাকা আয় করি!

আমি সেই সাংবাদিক ও অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই,যদি আমি প্রতি মাসে এত টাকা আয়ই করব, তবে সেই টাকা আমি কোথায় রাখলাম? তার তথ্য-প্রমাণ হাজির করুন। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করলে কেন এক লাখ টাকার ঋণের জন্য আমার নামে মামলা চলবে? কেন আমার বাবার দেওয়া একতলা বাড়িটি আজও ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকবে? কেন আমার কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স থাকবে না?’

সংবাদ সম্মেলনের শেষপর্যায়ে তিনি এই নোংরা ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানান এবং পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow