মাদক ব্যবসার অভিযোগে নবীনগরে সালিশে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি হলেন নারুই গ্রামের বাসিন্দা হবি মিয়া (৪০)। তিনি মৃত রহমত মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদক ব্যবসা দমনের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে গঠিত একটি মাদকবিরোধী কমিটির উদ্যোগে নারুই বাজারে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে হবি মিয়াকে উপস্থিত করা হয়। পরে তার মা ও স্ত্রীর সামনেই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হবি মিয়ার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর নির্দেশে এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তার পায়ের তালুতে বারবার আঘাত করছেন। এ সময় তিনি যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ চেয়ারে বসে নি

মাদক ব্যবসার অভিযোগে নবীনগরে সালিশে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি হলেন নারুই গ্রামের বাসিন্দা হবি মিয়া (৪০)। তিনি মৃত রহমত মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদক ব্যবসা দমনের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে গঠিত একটি মাদকবিরোধী কমিটির উদ্যোগে নারুই বাজারে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে হবি মিয়াকে উপস্থিত করা হয়। পরে তার মা ও স্ত্রীর সামনেই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হবি মিয়ার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর নির্দেশে এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তার পায়ের তালুতে বারবার আঘাত করছেন। এ সময় তিনি যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ চেয়ারে বসে নির্যাতনের দৃশ্য দেখছিলেন। অনেককে আবার মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি ধারণ করতেও দেখা যায়।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পরপরই ঘটনাস্থলে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ফিরে আসার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow