মাদারীপুরে জমে উঠেছে বেচাকেনা
ঈদুল আজহা সামনে রেখে মাদারীপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। পশুর পর্যাপ্ত জোগান থাকায় জেলা ও উপজেলার হাটগুলোতে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পছন্দের পশু কিনতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তুমুল দরকষাকষি। এদিকে হাটে জাল টাকা ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে সাদা পোশাকেও কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর সদরের হবিগঞ্জ এলাকার পশুর হাটটি বেশ বড়। এখানে কুষ্টিয়ার কুমারখালির বাঁশগ্রামের খামারি মিরাজ খাঁ ২৭টি পশু এনেছেন। যার মধ্যে বেশি আকর্ষণ ১৮ মণ ওজনের হোলস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। ৪ বছর ধরে মিরাজ খাঁর লালনপালন করা ষাঁড় গরুটির দাম হাঁকছেন আট লাখ টাকা। এ গরু কিনতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। এ পর্যন্ত দাম উঠেছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তবে মিরাজ আশাবাদী দাম আরও বেশি পাবেন। খামারি মিরাজ খাঁ বলেন, হবিগঞ্জ হাট অনেক বড়। আমার ১৮ মণ ওজনের গরুটি এ হাটের বড় আকর্ষণ। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে গরুটি বিক্রি হবে। আট লাখ টাকা চাইলেও ছয় বা তার কিছুটা বেশি হলেই বিক্রি করে দেবো। স্থানীয় আজিজুল হক বলেন, এ এলাকার লোকজন ইতালিতে বেশি থাকেন। তাই এখানে গরু বিক্রিও বেশ ভালো। দাম নিয়ে কোনো
ঈদুল আজহা সামনে রেখে মাদারীপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। পশুর পর্যাপ্ত জোগান থাকায় জেলা ও উপজেলার হাটগুলোতে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পছন্দের পশু কিনতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তুমুল দরকষাকষি।
এদিকে হাটে জাল টাকা ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে সাদা পোশাকেও কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর সদরের হবিগঞ্জ এলাকার পশুর হাটটি বেশ বড়। এখানে কুষ্টিয়ার কুমারখালির বাঁশগ্রামের খামারি মিরাজ খাঁ ২৭টি পশু এনেছেন। যার মধ্যে বেশি আকর্ষণ ১৮ মণ ওজনের হোলস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। ৪ বছর ধরে মিরাজ খাঁর লালনপালন করা ষাঁড় গরুটির দাম হাঁকছেন আট লাখ টাকা। এ গরু কিনতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। এ পর্যন্ত দাম উঠেছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তবে মিরাজ আশাবাদী দাম আরও বেশি পাবেন।
খামারি মিরাজ খাঁ বলেন, হবিগঞ্জ হাট অনেক বড়। আমার ১৮ মণ ওজনের গরুটি এ হাটের বড় আকর্ষণ। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে গরুটি বিক্রি হবে। আট লাখ টাকা চাইলেও ছয় বা তার কিছুটা বেশি হলেই বিক্রি করে দেবো।
স্থানীয় আজিজুল হক বলেন, এ এলাকার লোকজন ইতালিতে বেশি থাকেন। তাই এখানে গরু বিক্রিও বেশ ভালো। দাম নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। সবাই যার যার সাধ্যমতো কোরবানির পশু কিনেন।
শ্রীনদী এলাকা থেকে আসা তুহিন খান বলেন, কোরবানির জন্য এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় গরু কিনেছি। এবারে মাদারীপুরের হাটগুলোর পরিবেশ বেশ ভালো।
দুধখালী এলাকার খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, সারাবছর কোরবানির অপেক্ষায় থাকি। সেজন্য খামারে পশুকে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করছি। এখন এগুলো টেকেরহাটের বিক্রির জন্য এনেছি।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা টেকেরহাট বন্দর এলাকার হাটটি প্রায় শতবছরের। এ হাটকে ঘিরেও ক্রেতা বিক্রেতারা ভিড় করছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে হওয়ায় যাতায়াত সুবিধার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে বিক্রেতারা আসে।
মাদারীপুরের জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, মাদারীপুর জেলা ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে প্রতিটি হাটের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৮টি টিম জেলায় ঘুরে ঘুরে কাজ করছে। কোনো প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, কোরবানির পশুর হাটে জাল টাকা কারবারিকে ধরতে ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে সাদা পোশাকেও কাজ করছে পুলিশ। এছাড়া আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে টহল বাড়ানো হয়েছে। যাতে বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে পশু বিক্রি করে অর্থ নিয়ে ও ক্রেতারা পশু নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন।
মাদারীপুর র্যাব-৮ এর কমান্ডার মীর মনির হোসেন বলেন, জাল নোট ব্যবসায়ী, চুরি, ছিনতাই, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টিসহ কুচক্রী মহলের সদস্যদের ধরতে কোরবানির হাটগুলোতে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া হাটে বিশৃঙ্খলা ও সড়কে নৈরাজ্য ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা র্যাব-৮ এর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা পশু বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাতে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারে, সে ব্যাপারে তৎপর বাহিনীর সদস্যরা।
এএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?