মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রধান পদে এখনো যোগ দেননি মনোনীত কর্মকর্তা

বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে মিকা কানারভাভুওরিকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে বাংলাদেশ সরকারের ‘অনিচ্ছায়’ তিনি ঢাকায় আসতে পারছে না বলে নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র। নানা সমালোচনার মধ্যেই বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) চালু হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর প্রধানের পদটি ফাঁকা পড়ে আছে। গত বছরের নভেম্বরে এই অফিসের প্রধান হুমা খান তার মেয়াদ শেষ করে বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ পদে নতুন কেউ আসেননি। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, হুমা খানের স্থলে ওএইচসিএইচআরের সিনিয়র মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা মিকা কানারভাভুওরিকে মনোনীত করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার নামও পাঠানো হয়েছে। তবে মিকার বিষয়ে এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি সরকার। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, মিকার নাম আমরা শুনেছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র আমাদের হাতে আসেনি। আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলে এ বিষয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হুমা খানকে বাংলাদেশে বেশ সক্রিয় দেখা যায়। অন্তর্বর্তী

মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রধান পদে এখনো যোগ দেননি মনোনীত কর্মকর্তা

বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে মিকা কানারভাভুওরিকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে বাংলাদেশ সরকারের ‘অনিচ্ছায়’ তিনি ঢাকায় আসতে পারছে না বলে নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র।

নানা সমালোচনার মধ্যেই বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) চালু হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর প্রধানের পদটি ফাঁকা পড়ে আছে। গত বছরের নভেম্বরে এই অফিসের প্রধান হুমা খান তার মেয়াদ শেষ করে বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ পদে নতুন কেউ আসেননি।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, হুমা খানের স্থলে ওএইচসিএইচআরের সিনিয়র মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা মিকা কানারভাভুওরিকে মনোনীত করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার নামও পাঠানো হয়েছে। তবে মিকার বিষয়ে এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি সরকার।

যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, মিকার নাম আমরা শুনেছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র আমাদের হাতে আসেনি। আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলে এ বিষয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হুমা খানকে বাংলাদেশে বেশ সক্রিয় দেখা যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সখ্যের পরিপ্রেক্ষিতে হুমা খানকে বহাল রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মৌখিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে সে অনুরোধে সাড়া দেয়নি জাতিসংঘ।

ফলে আপাতত ঢাকায় ফেরা হয়নি হুমা খানের। তার পরিবর্তে মিকা কানারভাভুওরিকে পাঠানোর কথা জানায় জাতিসংঘ, যিনি ফিনল্যান্ডের নাগরিক এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন
ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন, প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগে
ঢাকায় জাতিসংঘের অফিস নিয়ে সমালোচনা করলেন আখতার
অবশেষে ঢাকায় চালু হচ্ছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের মিশন
আমাদের স্বার্থেই জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের কার্যালয় স্থাপন

বাংলাদেশ এখন সেই ১৬টি দেশের তালিকায় যুক্ত, যেখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল পূর্ণাঙ্গ ম্যান্ডেট নিয়ে সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, চাদ, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, গিনি, হন্ডুরাস, লাইবেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, নাইজার, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার মতো দেশগুলোতে ইতোমধ্যে এ ধরনের অফিস চালু রয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব অফিসের মূল লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও উন্নয়নে সহায়তা করা। পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও অন্য অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে কারিগরি সহায়তা প্রদানও অফিসগুলোর অন্যতম দায়িত্ব।

৫ আগস্ট পরবর্তীসময়ে বাংলাদেশে আলোচনার কেন্দ্রে বেশ কয়েকজন কূটনীতিকের সঙ্গে হুমা খানের নামও আলোচিত ছিল। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় তাকে বৈঠক করতে দেখা যায়। এমনকি ট্রাইব্যুনালের এক সংবাদ সম্মেলনে হুমা খানের উপস্থিতি বিতর্কের জন্ম দেয় সে সময়।

জানা যায়, মিকা কানারভাভুওরি ২০০১ সাল থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরে মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে জাতিসংঘের সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফিলিপাইনে জাতিসংঘের সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা, ফিজিতে অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ওএইচসিএইচআরের আঞ্চলিক দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জেপিআই/এএসএ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow