পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কৌড়ি গ্রামে ৫০০ দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেছে ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কৌড়ি বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গ্রামের বিভিন্ন পরিবারের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে গত ৭ জুন ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ দেশব্যাপী ৪ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের ঘোষণা দেয়। সেই লক্ষ্য শনিবার কক্সবাজারে পূরণ হয়।
শনিবার (৪ জুন) কৌড়ি গ্রামে আরও ৫০০ চারা রোপণ ও বিতরণের মাধ্যমে সংগঠনটির চলমান কর্মসূচিতে মোট ৪ হাজার ৭০০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
সবুজে ঘেরা কৌড়ি গ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই বৃক্ষপ্রেমীদের কাছে একটি অনুকরণীয় জনপদ। গ্রামের প্রয়াত বৃক্ষপ্রেমী শাহজাহান বিশ্বাস নিজ উদ্যোগে প্রায় ৬০ হাজার গাছ রোপণ করে গ্রামটিকে সবুজে আচ্ছাদিত করেছিলেন। ২০২২ সালে তার মৃত্যু হলেও তার লাগানো গাছগুলো আজও পরিবেশ সংরক্ষণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তার এই উদ্যোগের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ইউনিসেফের সাবেক কর্মকর্তা এ কে এম কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিন মুরাদ, এ্যাসেট ডেভেলপমেন্টের পরিচালক আশরাফুজ্জামান টিটু, আবু বকর সিদ্দিকসহ স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা।
চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন গত তিন বছর ধরে কৌড়ি গ্রামে বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এসব উদ্যোগে নিয়মিত সহযোগিতা করছে কৌড়ি বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থা।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিন মুরাদ, কৌড়ি বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন রাজীব, চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচারের প্রতিষ্ঠাতা শাখাওয়াত উল্লাহ, চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পরিবেশপ্রেমী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিন মুরাদ বলেন, 'জীবনে ফুটবল খেলা উপলক্ষে অনেক পাগলামি দেখেছি, কিন্তু ফুটবলের উত্তেজনাকে এভাবে ইতিবাচক ও পরিবেশবান্ধব কাজে ব্যবহার করতে কখনো দেখিনি। তাদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি চাই, এ ধরনের কার্যক্রম সারা দেশে আরও বিস্তৃত হোক।'
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বৃক্ষরোপণ এখন সময়ের দাবি। তাই ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে তরুণদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’-এর লক্ষ্য। শুধু চারা রোপণ নয়, প্রতিটি গাছের নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে এসব চারা ভবিষ্যতে বড় গাছে পরিণত হয়ে পরিবেশ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।