মারা গেল সেই হাতি
সিলেটে কালনী ট্রেনের ধাক্কায় খাঁদে পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা হাতিটিকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার ৩৯ ঘণ্টা পর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু হয়।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান।
জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় একটি ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে হাতিটি খাঁদে পড়ে যায়। পরে রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় হাতিটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়ার পর থেকে ঘটনাস্থলেই তার চিকিৎসা চলছিল। অনেক চেষ্টা করেও হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া হাতিটির মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কামরুল ইসলাম। কয়েক দিন আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ও মেলায় অংশ নিতে হাতিটিকে সিলেটে আনা হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় হাতিটির মাহুতও আহত হন।
রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, কালনী ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটির পেছ
সিলেটে কালনী ট্রেনের ধাক্কায় খাঁদে পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা হাতিটিকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার ৩৯ ঘণ্টা পর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু হয়।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান।
জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় একটি ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে হাতিটি খাঁদে পড়ে যায়। পরে রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় হাতিটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়ার পর থেকে ঘটনাস্থলেই তার চিকিৎসা চলছিল। অনেক চেষ্টা করেও হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া হাতিটির মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কামরুল ইসলাম। কয়েক দিন আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ও মেলায় অংশ নিতে হাতিটিকে সিলেটে আনা হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় হাতিটির মাহুতও আহত হন।
রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, কালনী ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটির পেছনের দুই পা গুরুতরভাবে আহত হয়েছে ও মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেছে। দীর্ঘ সময় কাদাযুক্ত পানিতে পড়ে থাকায় হাতিটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। উদ্ধার শেষে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. টিপু সুলতানসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হাতিটির চিকিৎসা করেন।
দক্ষিণ সুরমার পানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মমতাজ বেগমে কালবেলাকে বলেন, কালনী ট্রেনের ধাক্কায় খাঁদে পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের একটি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্রেনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হাতিটিকে উদ্ধার করেন। হাতির পেছনের দুই পা ভেঙে গেছে ও মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। উদ্ধার করার পর আমরা হাতিটিকে অনেক চিকিৎসা করেছি।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় হাতিটি মারা যায়। খাঁদ থেকে উদ্ধারের পর হাতিটিকে মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হলেও গুরুতর আহত থাকায় প্রাণীটিকে ওই স্থান থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু হয়।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান আহমদ বলেন, ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি রেললাইনসংলগ্ন খাঁদে পড়ে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পায়। এতে হাতিটির পেছনের অংশ অসাড় হয়ে যায় এবং উঠে দাঁড়াতে পারেনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, হাতিটির চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে ঢাকা থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে আসেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে সোমবার দুপরে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।