মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তি এখনও নাগালের মধ্যেই রয়েছে। মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক সমাধান নেই। তার ভাষায়, কূটনৈতিক সমাধান আমাদের নাগালের মধ্যেই। আমরা সহজেই তা অর্জন করতে পারি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, একটি ন্যায্য ও উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক (উইন-উইন) সমাধানের ভিত্তিতে চুক্তি সম্ভব। আরাঘচির সতর্কবার্তা, সামরিক বিকল্প কেবল পরিস্থিতিকে জটিল করবে এবং শুধু আমাদের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা জান

মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তি এখনও নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক সমাধান নেই।

তার ভাষায়, কূটনৈতিক সমাধান আমাদের নাগালের মধ্যেই। আমরা সহজেই তা অর্জন করতে পারি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, একটি ন্যায্য ও উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক (উইন-উইন) সমাধানের ভিত্তিতে চুক্তি সম্ভব।

আরাঘচির সতর্কবার্তা, সামরিক বিকল্প কেবল পরিস্থিতিকে জটিল করবে এবং শুধু আমাদের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা জানান।

তিনি বলেন, আমি বলতে পারি, বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

ট্রাম্প এর আগে তেহরানকে ১০ দিনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা বেঁধে দেন, পরে তা বাড়িয়ে ১৫ দিন পর্যন্ত করেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া উচিত।

গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দফা আলোচনা করেছে এবং উভয় দেশের কর্মকর্তারা আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের চারপাশে সামরিক শক্তি জড়ো করা অব্যাহত রেখেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে।

গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যোগ দিয়ে দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

আরাঘচি বলেন, ইরানিরা গর্বিত জাতি এবং তারা কেবল সম্মানের ভাষা বোঝে।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসনগুলো—এমনকি বর্তমান প্রশাসনও—যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করে দেখেছে, কিন্তু সেগুলোর কোনোটি কার্যকর হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সামরিক প্রস্তুতি ও কড়া বক্তব্যের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আবারও চরম উত্তেজনার মুখে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow