মার্কেট থেকে ফুটপাতে শীতের আমেজ, স্বস্তিতে বিক্রেতারাও

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে জমে উঠেছে শীতের পোশাক বাজার। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠছে নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন সুপার মার্কেট ও ফুটপাত। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ভিড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ভালো বিক্রি হবে। রাজধানীর বিভিন্ন শীতের পোশাকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিজের জন্য কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য শীতের পোশাক কিনতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। খুচরা বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও বেড়েছে বেচাকেনা। নিউমার্কেটের দোকানগুলোতে ছেলেদের জ্যাকেট, ডেনিম সোয়েটার, লম্বা হাতার মোটা গেঞ্জি ও ব্লেজারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব পোশাক বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে শুরু করে দেড়-দুই হাজার টাকায়। নারীদের সোয়েটার, জ্যাকেট ও হুডির বিক্রিও ভালো, যার দাম ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। নিউ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মুসতাক আহমেদ বলেন, শীত আগে থেকে থাকলেও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্রেতা তেমন ছিল না। এখন জানুয়ারিতে মার্কেটে ভালো চাপ। বিক্রি ভালো হচ্ছে। এভাবে চললে এ বছর ব্যবসা ভালো হবে। চন্দ্রিম

মার্কেট থেকে ফুটপাতে শীতের আমেজ, স্বস্তিতে বিক্রেতারাও

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে জমে উঠেছে শীতের পোশাক বাজার। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠছে নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন সুপার মার্কেট ও ফুটপাত। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ভিড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ভালো বিক্রি হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন শীতের পোশাকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিজের জন্য কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য শীতের পোশাক কিনতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। খুচরা বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও বেড়েছে বেচাকেনা।

নিউমার্কেটের দোকানগুলোতে ছেলেদের জ্যাকেট, ডেনিম সোয়েটার, লম্বা হাতার মোটা গেঞ্জি ও ব্লেজারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব পোশাক বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে শুরু করে দেড়-দুই হাজার টাকায়। নারীদের সোয়েটার, জ্যাকেট ও হুডির বিক্রিও ভালো, যার দাম ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে।

নিউ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মুসতাক আহমেদ বলেন, শীত আগে থেকে থাকলেও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্রেতা তেমন ছিল না। এখন জানুয়ারিতে মার্কেটে ভালো চাপ। বিক্রি ভালো হচ্ছে। এভাবে চললে এ বছর ব্যবসা ভালো হবে।

চন্দ্রিমা মার্কেট, নূরজাহান প্লাজা, গ্লোব সুপার মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেটেও শীতের পোশাক কিনতে আসা ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

গ্লোব সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী ইজাজুল ইসলাম জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়ারাই এখানে বেশি আসছেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, বিক্রেতারা প্রথমে অনেক বেশি দাম চান। পরে দরদাম করে নিতে হয়। আমি একটি জ্যাকেট ৭০০ টাকায় কিনেছি, যেটার দাম প্রথমে চেয়েছিল ৩ হাজার টাকা।

রাজধানীর সুপার মার্কেটগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতেও জমজমাট শীতের পোশাকের বেচাকেনা। কম দামে পোশাক পাওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুটপাতে ভিড় করছেন। ফুটপাতে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষের শীতের পোশাক ২৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

গুলিস্তানের ফুটপাতের কাপড় বিক্রেতা ইব্রাহীম মুন্সী বলেন, বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতার ভিড় থাকে। আমরা কম লাভে বিক্রি করি, তাই ক্রেতাও বেশি আসে। গত কয়েক দিনে বেচাকেনা বেশি হচ্ছে।

কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গুলিস্তানে কমদামে পছন্দমতো শীতের পোশাক পাওয়া যায়। আমি সাড়ে ৮০০ টাকা দিয়ে একটি জ্যাকেট কিনেছি।

তবে দাম কিছুটা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ক্রেতা। শনির আখড়া থেকে পরিবার নিয়ে শীতের কাপড় কিনতে আসা মিলন আহমেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। কিন্তু ছেলেমেয়েদের নতুন শীতের পোশাক চাই, তাই কিনতেই হচ্ছে।

এদিকে, কয়েক দিন ধরে কম্বলের বাজারেও ক্রেতাসাধারণের আনাগোনা বেড়েছে। ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেটের পাশের জিপিও সড়কের কম্বল বাজারেও ভিড় বেড়েছে।

শীত আরও বাড়লে রাজধানীর শীতের পোশাকের বাজারে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow