মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার ঐতিহাসিক বাদী এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে মক্কেলের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আইন কর্মকর্তা জামাল হোসাইন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি মাসদার হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। সংবাদ সম্মেলনে জামাল হোসাইন বলেন, মাসদার হোসেন দাবি করেছেন মামলার অর্থমূল্য ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ভ্যাটসংক্রান্ত ওই মামলার অর্থমূল্য ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭২২ টাকা। মামলার ২০ শতাংশ হিসেবে ভ্যাট ট্রাইব্যুনালে ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়েছে, যা কোম্পানি নিজেই পরিশোধ করেছে। অথচ মাসদার হোসেন অন্য এক আইনজীবীকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে যে দাবি করেছেন, তা ভিত্তিহীন। আইন কর্মকর্তা জামাল হোসাইন বলেন, অন্য আইনজীবী তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের নামে এফডিআর করেছে, না অন্য কেউ নিয়ে গেছে যা আমাদের জানার বিষয় নয়। কারণ আমার
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার ঐতিহাসিক বাদী এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে মক্কেলের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আইন কর্মকর্তা জামাল হোসাইন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি মাসদার হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
সংবাদ সম্মেলনে জামাল হোসাইন বলেন, মাসদার হোসেন দাবি করেছেন মামলার অর্থমূল্য ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ভ্যাটসংক্রান্ত ওই মামলার অর্থমূল্য ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭২২ টাকা। মামলার ২০ শতাংশ হিসেবে ভ্যাট ট্রাইব্যুনালে ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়েছে, যা কোম্পানি নিজেই পরিশোধ করেছে। অথচ মাসদার হোসেন অন্য এক আইনজীবীকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে যে দাবি করেছেন, তা ভিত্তিহীন।
আইন কর্মকর্তা জামাল হোসাইন বলেন, অন্য আইনজীবী তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের নামে এফডিআর করেছে, না অন্য কেউ নিয়ে গেছে যা আমাদের জানার বিষয় নয়। কারণ আমার কোম্পানির মামলা ও টাকা রিসিভ করেছেন অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেন। তিনি এই মামলার শুনানি করবেন এবং তিনি আমাদের পক্ষে রায় এনে দিবেন, এই শর্তে তিনি আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমরা অন্য কাউকে কাজ দেই নাই, অন্য কাউকে টাকাও দেয়নি। এছাড়াও বার কাউন্সিল বিধি ৬৫এ (২) অনুযায়ী কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারক শুধুমাত্র মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করতে পারবে এই কথা জানার পরেও তিনি আমার কোম্পানির নিম্ন আদালতের মামলা রিসিভ করেছেন এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডার লঙ্ঘন করে মক্কেলের সঙ্গে মোকাদ্দমার ফলাফল পাইয়ে দিবে বলে চুক্তি করেছেন যা সম্পূর্ণ বার কাউন্সিল রুলস্ এন্ড অর্ডার-এর পরিপন্থি।
কোম্পানির টাকা আত্মসাতে জড়িতদের বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেন ও তার জুনিয়র অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারী এবং তৎকালীন কোম্পানির ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম এই ৩ জন মিলে আমার কোম্পানির নিকট হতে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মামলার কাজ বাবদ হাতিয়ে নিয়ে পুরো টাকা ৩ জনে আত্মসাৎ করেছেন। এমন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে।
মো. জামাল হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি নূর প্লাস্টিক ইন্ড্রা. লিমিটেডের লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার। আমার কোম্পানির পক্ষে আমি গত বছরের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারে অ্যাডভোকেট ও জেলা জজ (অব.) মাসদার হোসেন সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আপনারা যে সংবাদ প্রচার করেছেন তার বিপক্ষে অ্যাডভোকেট ও জেলা জজ (অব.) মাসদার হোসেন সাহেব যে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছেন তার প্রতিবাদ জানানোর জন্য আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।
জামাল হোসাইন অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমার কোম্পানির বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ১ কোটি দুই লাখ ৬৯ হাজার ৭২২ টাকা ২৮ পয়সার কর হিসাবের অসামঞ্জস্য হওয়ার কারণে কমিশনার, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট যশোর কার্যালয়ে একটি অভিযোগ হয়। উক্ত মামলায় আপিল করার জন্য কোম্পানির তৎকালীন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম ও ঢাকা মেট্রো বারের অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারী কোম্পানির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারীকে অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেনের চেম্বারে নিয়ে যায়।
অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেন মামলাটি পড়ে আমার কোম্পানির চেয়ারম্যানকে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ১৬৬ টাকা ৮৪ পয়সার মামলা হয়েছে। আমাকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দিলে আমি আপনার কর মওকুফ করে মামলা নিষ্পত্তি করে দিব। তখন উক্ত প্রস্তাবে আমার কোম্পানির চেয়ারম্যান রাজি হয়ে অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেনকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন তারিখে রিসিভ স্লিপের মাধ্যমে এক কোটি টাকা প্রদান করেন। অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেন তার স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে এই টাকা আমার কোম্পানির চেয়ারম্যানের নিকট হইতে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে আবার ভ্যাট আপিল বাবদ মামলা মূল্যের ২০ শতাংশ অর্থাৎ ২০ লাখ টাকা যেটা তার দেওয়ার কথা ছিল সেই টাকাও আমার কোম্পানিকে দিয়ে সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়ানো হয়।
তিনি বলেন, এরপর উক্ত মামলার কোনো তথ্য বা খোঁজখবর আমার কোম্পানিকে দেয়নি। এরই মধ্যে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেনের জুনিয়র অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারী আমার কোম্পানির অফিসে গিয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যানকে বলেন যে, আপনার মামলার কর শূন্য করার আদেশ আনতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হবে। তাই মাসদার স্যারের বকেয়া পাওনা দশ লাখ ও অতিরিক্ত ১৫ লাখ টাকাসহ মোট ২৫ লাখ টাকা মাসদার স্যারকে দিলে আপনি কর শূন্যের অর্ডারটি পেয়ে যাবেন। তখন আমার কোম্পানির চেয়ারম্যান বলেন যে, আপনার স্যারকে আমার মামলার আদেশ আনতে বলেন, তারপর আমি ২৫ লাখ টাকা দিব। কিন্তু অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারী তখন অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে কোম্পানির চেয়ারম্যানের উক্ত প্রস্তাবে রাজি না হয়ে অফিস থেকে রাগান্বিত হয়ে বের হয়ে যান। যাওয়ার সময় বলে যান, এর জন্য আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এরপর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর আমার কোম্পানি অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভ্যাট অ্যাপেলিট ট্রাইব্যুনাল থেকে আমার কোম্পানির বিরুদ্ধে ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানাসহ রায় হয়েছে।
জামাল হোসাইন বলেন, এই খবরের পর আমার কোম্পানি তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আমিসহ কোম্পানির চেয়ারম্যান মোবাইলের মাধ্যমে বার বার এই বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি সমাধান নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এমনকি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের সঙ্গে কোনো প্রকার সমঝোতা করেন নাই। পরবর্তীতে আমার কোম্পানি অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে ৪ লাখ ২১ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ভ্যাট আপিল দায়ের করেন। ভ্যাট আপিল নং-১১৪/২৫। ভ্যাট আপিল মামলায় হাইকোর্ট সন্তুষ্ট হয়ে আমার কোম্পানির পক্ষে এক বছরের জন্য ভ্যাট আপিলেট ট্রাইব্যুনাল রায় স্থগিত করে আদেশ প্রদান করেন। এরপর আমার কোম্পানির পক্ষে আমি গত বছরের ১ ডিসেম্বর অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারে অভিযোগ দাখিল করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেন গত ১৪ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করেন।
What's Your Reaction?