মিষ্টি আঙুর চাষে প্রথম বছরেই আয় লাখ টাকা

শৈশবের ছোট্ট এক অভিজ্ঞতা থেকেই শুরু। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মিষ্টি আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার খবদার গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. ফরহাদ হোসেন (২৮)। চলতি বছরে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করেছেন। জানা যায়, ফরহাদের বাবা কৃষক। ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহ ছিল তার। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে ৩০ টাকায় একটি আঙুরের চারা কিনেছিলেন স্থানীয় বাজার থেকে। এক বছর পর গাছে ফল ধরলেও তা ছিল টক স্বাদের। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে মিষ্টি আঙুর চাষে আগ্রহী করে তোলে। দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি উদ্যোগ নেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। শুরুটা ছিল মাত্র ১২টি চারা দিয়ে। ছয় মাসের মধ্যেই গাছে ফলন আসে। সেই আঙুর ছিল মিষ্টি জাতের। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি আরও প্রায় ২৫টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করেন। আরও পড়ুনজয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে কৃষকের বিঘায় লাভ আড়াই লাখ  বাড়ির পাশের ছোট একটি জায়গায় গড়ে তোলা বাগানে তার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। চলতি বছরেই তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করেছেন। আগামী বছর এ আয় ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন ফরহাদ। মো. ফরহাদ হোসেন জাগো নিউজকে বল

মিষ্টি আঙুর চাষে প্রথম বছরেই আয় লাখ টাকা

শৈশবের ছোট্ট এক অভিজ্ঞতা থেকেই শুরু। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মিষ্টি আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার খবদার গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. ফরহাদ হোসেন (২৮)। চলতি বছরে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করেছেন।

জানা যায়, ফরহাদের বাবা কৃষক। ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহ ছিল তার। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে ৩০ টাকায় একটি আঙুরের চারা কিনেছিলেন স্থানীয় বাজার থেকে। এক বছর পর গাছে ফল ধরলেও তা ছিল টক স্বাদের। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে মিষ্টি আঙুর চাষে আগ্রহী করে তোলে।

দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি উদ্যোগ নেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। শুরুটা ছিল মাত্র ১২টি চারা দিয়ে। ছয় মাসের মধ্যেই গাছে ফলন আসে। সেই আঙুর ছিল মিষ্টি জাতের। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি আরও প্রায় ২৫টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করেন।

angur

বাড়ির পাশের ছোট একটি জায়গায় গড়ে তোলা বাগানে তার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। চলতি বছরেই তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করেছেন। আগামী বছর এ আয় ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন ফরহাদ।

মো. ফরহাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাগানে বারোমাসি জাতের আঙুর চাষ করা হচ্ছে। বাইকুনুর, একুলা, ডিক্সন, গ্রিন লং, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বো, সুপার সোনাকা, অস্ট্রেলিয়ান কিং, ভেলেস, প্রেস্টিজ, ইয়ামিন, ড্রিম অব পর্তুগাল, গোল্ডেন সান মাসকাট, জেসমিন ও গোল্ডেন সিক্রেট ড্রিমসহ প্রায় ২৫টি জাত আছে। এসব আঙুরের রং ও আকারে বৈচিত্র্য থাকলেও স্বাদে সবই মিষ্টি।’

তিনি বলেন, ‘কিছু জাত বারোমাসি হওয়ায় সারাবছরই কমবেশি ফল পাওয়া যায়। আঙুর গাছ দীর্ঘমেয়াদি। একেকটি গাছ ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে এই খাত থেকে নিয়মিত আয়ের সম্ভাবনা আছে।’

angur

ফরহাদ আরও বলেন, ‘বাগানের আঙুর বাজারে প্রচলিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তারা প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে কিনছেন। দেশে উৎপাদিত নিরাপদ ও মিষ্টি আঙুর জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে মনে করি।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মিষ্টি আঙুরের চাষ শুরু হয়েছে, যা কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow