মুক্তাগাছায় একের পর এক শিশু নিখোঁজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত কয়েকদিনে একের পর এক শিশু ও কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক ঘটনায় কয়েকজন শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের সন্ধান না মেলায় পরিবারগুলো দিন কাটাচ্ছে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায়। সম্প্রতি উপজেলার ৫নং বাঁশাটি ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকা থেকে সিয়াম (৮) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুতুবপুর মাজার সংলগ্ন নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর আগে, একই উপজেলায় মো. রিয়াজুল ইসলাম (১৫) নামের এক কিশোর গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের দাবি, সে মাদ্রাসায় পৌঁছায়নি এবং এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালানো হলেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি। অন্যদিকে, আরও হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় উপজেলার কামারিয়া গ্রামের তিন বছরের শিশু জান্নাত গত ১৮ এপ্রিল পাশের শোলাকুড়ী মেলা থেকে নিখোঁজ হয়। মেয়েকে ফিরে পেতে বাবা জুলহাস মিয়া গলায় সন্তানের ছবি ঝুলিয়ে বাজারে বাজারে ঘুরছেন।

মুক্তাগাছায় একের পর এক শিশু নিখোঁজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত কয়েকদিনে একের পর এক শিশু ও কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক ঘটনায় কয়েকজন শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের সন্ধান না মেলায় পরিবারগুলো দিন কাটাচ্ছে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায়।

সম্প্রতি উপজেলার ৫নং বাঁশাটি ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকা থেকে সিয়াম (৮) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুতুবপুর মাজার সংলগ্ন নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এর আগে, একই উপজেলায় মো. রিয়াজুল ইসলাম (১৫) নামের এক কিশোর গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের দাবি, সে মাদ্রাসায় পৌঁছায়নি এবং এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালানো হলেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি।

অন্যদিকে, আরও হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় উপজেলার কামারিয়া গ্রামের তিন বছরের শিশু জান্নাত গত ১৮ এপ্রিল পাশের শোলাকুড়ী মেলা থেকে নিখোঁজ হয়। মেয়েকে ফিরে পেতে বাবা জুলহাস মিয়া গলায় সন্তানের ছবি ঝুলিয়ে বাজারে বাজারে ঘুরছেন। প্রতিদিনই তিনি মানুষের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন তার সন্তানকে কেউ দেখেছে কিনা। পরিবারটির এই অসহায়ত্ব স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।

একের পর এক নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

মুক্তাগাছা থানার তথ্য মতে গত মার্চ মাসে ৮টা মিসিং জিডি এন্ট্রি করা হয়। তারমধ্যে ৪ জনকে উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে চলতি এপ্রিল মাসেই ১৪ টি মিসিং জিডি এন্ট্রি করা হয়, যার মধ্যে ২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মিসিং হওয়া বেশিরভাগই হলো শিশু এবং কিশোর। যাদের বয়স ৮ থেকে ১৫ বছর। 

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও সমাজকর্মীরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, নিখোঁজ শিশুদের পরিবারগুলোর একটাই আকুতি তাদের সন্তান যেন দ্রুত নিরাপদে ফিরে আসে। তারা সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

পৌর এলাকার বাসিন্দা এবিএম প্রিয়াস মৃধা বলেন, একই এলাকায় স্বল্প সময়ে একাধিক শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। বাজার, মেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনসমাগমস্থলে নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম সবুজ বলেন, শিশু-কিশোর নিখোঁজের এসব ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই অশনিসংকেত। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) জুলুস খান পাঠান কালবেলাকে বলেন, নিখোঁজের ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কিছু ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

যেকোনো তথ্য পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পরিবার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow