মুরাদনগরে পুরুষশূন্য গ্রামে চুরি-ডাকাতির শঙ্কা, বিক্ষোভ

2 weeks ago 8

কুমিল্লার মুরাদনগরে কড়ইবাড়ি গ্রামে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে এখনো প্রায় পুরুষশূন্য গ্রাম। এতে এলাকায় চুরি-ছিনতাই ও ডাকাত আতঙ্কে ভুগছেন নারীরা।

তাদের দাবি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর কারণে গ্রামের নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানি করছে প্রশাসন। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে এলাকাবাসী।

সোমবার (১১ আগস্ট) কড়ইবাড়ি স্টেশন এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। গ্রামে পুরুষশূন্য থাকায় পাঁচ শতাধিক নারী ও শিশু এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামে জনরোষের শিকার হয়ে গণপিটুনিতে এক ছেলে ও এক মেয়েসহ নিহত হন মাদক ব্যবসায়ী রুবি আক্তার। নিহত রুবি আক্তারের বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। 

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৫ নম্বর আসামি শাহ আলম চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পুরো গ্রাম গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত ৪ জুলাই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা নিয়ে একটি পক্ষ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। প্রকৃত অপরাধী ছাড়াও নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানি করছে প্রশাসন। এতে করে আতঙ্কে এক মাসেরও অধিক সময় ধরে পুরুষশূন্য কড়ইবাড়ি গ্রাম।

কড়ইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রহিমা খাতুন, ভুলনা বেগম, আমেনা আক্তার, সায়েরা বানু বলেন, এক মাস ধরে আমাদের নিরপরাধ পুরুষরা গ্রেপ্তারের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে এলাকায় চুরি-ছিনতাই ও ডাকাত আতঙ্কে রয়েছি আমরা। প্রায় প্রতি রাতেই গ্রামে বহিরাগত লোক এসে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে- আসামি খুঁজতে এলে সরকারি পোশাক পরে আসবেন। সাদা পোশাকের নামে হয়রানি বন্ধ করুন।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পুরুষরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে খাবারসহ অর্থ কষ্টে ভুগছি আমরা। শিশু সন্তানদের নিয়ে অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা চাই যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক। নিরপরাধ মানুষরা গ্রামে ফিরে আসুক।

মুরাদনগর বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডারের মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতি রাতেই কড়ইবাড়ি এলাকাসহ আশপাশের গ্রামে পুলিশের চারটি টহল টিম কাজ করছে। এছাড়াও নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা পুলিশের পোশাক পরেই ডিউটিতে বের হই। তবে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো সংস্থার কর্মকর্তারা আসে কিনা সেটি আমার জানা নেই। নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগটি সঠিক নয় বলে দাবি করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

Read Entire Article