‘মূল নির্দেশদাতাদের লঘুদণ্ড’, রায়ে সাক্ষী ও সহযোদ্ধাদের ক্ষোভ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই রায় নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার সাক্ষী, আবু সাঈদের সহপাঠী ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া সহযোদ্ধারা। তাদের অভিযোগ, হত্যার মূল নির্দেশদাতা ও নেপথ্যের কুশীলবরা উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আসেনি। প্রত্যাশা অনুযায়ী বিচার না হওয়ায় তারা গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলায় মোট ৩০ আসামির মধ্যে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার সাক্ষী ইমরান হোসেন বলেন, রায় ঘোষণার বিষয়টি ইতিবাচক হলেও শাস্তির মাত্রা হতাশাজনক। যাদের নির্দেশে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনেককেই মামলার বাইরে রাখা হয়েছে।  আরেক সাক্ষ

‘মূল নির্দেশদাতাদের লঘুদণ্ড’, রায়ে সাক্ষী ও সহযোদ্ধাদের ক্ষোভ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই রায় নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার সাক্ষী, আবু সাঈদের সহপাঠী ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া সহযোদ্ধারা।

তাদের অভিযোগ, হত্যার মূল নির্দেশদাতা ও নেপথ্যের কুশীলবরা উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আসেনি। প্রত্যাশা অনুযায়ী বিচার না হওয়ায় তারা গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় মোট ৩০ আসামির মধ্যে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার সাক্ষী ইমরান হোসেন বলেন, রায় ঘোষণার বিষয়টি ইতিবাচক হলেও শাস্তির মাত্রা হতাশাজনক। যাদের নির্দেশে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনেককেই মামলার বাইরে রাখা হয়েছে। 

আরেক সাক্ষী ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, সেদিন যারা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছিল, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়নি। এই রায়ে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা হতাশ। 

ঘটনাস্থলে আবু সাঈদের পাশে থাকা গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য হানিফুর রহমান সজিব বলেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে গুলি চালানো হয়েছিল। অথচ তাদের কেবল কারাদণ্ড দেওয়া হলো। মূল দায়ীদের লঘু শাস্তিতে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। 

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন দাবি জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি করা ব্যক্তিদের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি— বিষয়টি আমলে নিয়ে শাস্তির মাত্রা পুনর্বিবেচনা করা হোক। 

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা সাঈদের ওপর পুলিশের গুলি বর্ষণের ভিডিও দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্টে পরিণত হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow