মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এবার তেলের রিজার্ভে হাত দিলেন ট্রাম্প

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইএ)-এর পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়বে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে সাহসী প্রচেষ্টা। বুধবার বিকালে সিনসিনাটি নিউজ স্টেশন ‘লোকাল ১২’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তেল ছাড়ব এবং এরপর আবার তা পূর্ণ করব। আমি একবার এটি পূর্ণ করেছি এবং আবারও করব। তবে বর্তমানে আমরা মজুত কিছুটা কমিয়ে আনব, যা তেলের দাম কমিয়ে দেবে।’ জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বুধবার পরবর্তীতে ঘোষণা করেন, আগামী সপ্তাহ থেকে এই তেল উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এটি সম্পন্ন করতে প্রায় ১২০ দিন সময় লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি আইইএ-এর ৩২টি সদস্য

মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এবার তেলের রিজার্ভে হাত দিলেন ট্রাম্প
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইএ)-এর পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়বে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে সাহসী প্রচেষ্টা। বুধবার বিকালে সিনসিনাটি নিউজ স্টেশন ‘লোকাল ১২’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তেল ছাড়ব এবং এরপর আবার তা পূর্ণ করব। আমি একবার এটি পূর্ণ করেছি এবং আবারও করব। তবে বর্তমানে আমরা মজুত কিছুটা কমিয়ে আনব, যা তেলের দাম কমিয়ে দেবে।’ জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বুধবার পরবর্তীতে ঘোষণা করেন, আগামী সপ্তাহ থেকে এই তেল উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এটি সম্পন্ন করতে প্রায় ১২০ দিন সময় লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি আইইএ-এর ৩২টি সদস্য দেশের (যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স অন্তর্ভুক্ত) সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ। এই দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে এ ধরনের বৃহত্তম পদক্ষেপ। ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন রিজার্ভ ব্যবহার করায় দীর্ঘ কয়েক বছর তার সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে বুধবার কেনটাকিতে এক সমাবেশে তিনি আইইএ-এর এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমেরিকা ও বিশ্বের ওপর আসা এই হুমকি মোকাবিলা করার পাশাপাশি এটি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ না করে মাঝপথে ফিরতে চাই না, তাই না? আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’ এর আগে বুধবার বিকালে অভ্যন্তরীণ বিষয়ক সচিব ডগ বারগাম জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যোগ দেবেন কি না সে বিষয়ে তখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় সংরক্ষিত এই রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে নাকচ করে দিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানি হামলার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, কারণ জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্র থেকে বিশ্ববাজারে যাওয়ার মূল পথটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে। জ্বালানি বিভাগের এই ঘোষণার পর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচার প্রাইসে খুব একটা প্রভাব পড়েনি এবং বুধবার সন্ধ্যায় তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা বিশ্বকে ২০০ ডলারের তেলের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছেন। জ্বালানি বিভাগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুতে বর্তমানে ৪১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে, যা মোট ধারণক্ষমতার ৫৯ শতাংশেরও কম। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে, যা সাধারণত প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত তেলের পরিমাণের সমান। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বাজার স্থিতিশীল করতে বাইডেন প্রশাসন যে পরিমাণ তেল ব্যবহার করেছিল, ট্রাম্প প্রশাসন রিজার্ভে তার মাত্র সামান্য অংশই পুনরায় যোগ করতে পেরেছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow