মৃত বাবা-ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি কবরে দাফনের প্রস্তুতি, গ্রামে শোক

রাজধানীর উত্তরার ১১নং সেক্টরের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দড়িপাঁচাশি গ্রামে। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা-ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। আজ শুক্রবার রাতেই বাড়ির পাশে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে। এর আগে, সকালে উত্তরার বাসাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হারেছ উদ্দিন, তার ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) ও ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তারের (১৫) মৃত্যু হয়। রাহাব উচ্চমাধ্যমিক ও রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২)। ১৯৯৪ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান তারা। দুই ভাই পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করেন। উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করেন। বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশ

মৃত বাবা-ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি কবরে দাফনের প্রস্তুতি, গ্রামে শোক

রাজধানীর উত্তরার ১১নং সেক্টরের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দড়িপাঁচাশি গ্রামে। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা-ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। আজ শুক্রবার রাতেই বাড়ির পাশে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে।

এর আগে, সকালে উত্তরার বাসাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হারেছ উদ্দিন, তার ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) ও ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তারের (১৫) মৃত্যু হয়। রাহাব উচ্চমাধ্যমিক ও রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২)। ১৯৯৪ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান তারা। দুই ভাই পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করেন। উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করেন।

বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হচ্ছে। মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ জানান, মাদ্রাসা ও মসজিদে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হারেছ উদ্দিন। এমন ভালো একজন মানুষের মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না।

হারেছ উদ্দিনের দোকানের প্রাক্তন কর্মচারী মনির হোসেন। তিনি বলেন, হারেছ উদ্দিন দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এবং শহীদুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাসাটিতে থাকতেন। হারেছের তিন বছরের ছেলে আরহান চৌধুরীকে নিয়ে স্ত্রী মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শহীদুলের স্ত্রী সকালে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। শহীদুল দোকানে চলে গিয়েছেন। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের অন্য তিনজন মারা যান।

হারেছের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পাই। অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনায় তিনজন মানুষ মারা গেল। সংসারে অভাবের কারণে দুই ভাতিজা খুব ছোটবেলা থেকে ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা করে জীবন চালাচ্ছিল। এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow