মেসি বললেন ইয়ামালের সাফল্য চাই, তবে ফাইনালে তাকে থামাতে চেষ্টা থাকবে সর্বোচ্চ
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলন, অনুশীলন কিংবা আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন—এসব তো নিয়মিত দৃশ্য। তবে এবার নিউইয়র্কে ফুটবল বিশ্বকে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা উপহার দিল ফিফা। জাভিটস সেন্টারে আয়োজিত ‘ফ্যানাটিক ফেস্ট’ যেন পরিণত হয়েছিল ফুটবল, বিনোদন ও বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের এক মিলনমেলায়, যেখানে মূল আকর্ষণ ছিল মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগেই মানবিক বন্ধনের এক অনন্য প্রদর্শনী।
দুপুর গড়ানোর আগেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে দীর্ঘ লাইন। থার্টি ফোর স্ট্রিট-হাডসন ইয়ার্ডস মুখঅ ট্রেনগুলোর যাত্রী হতেই সেটি অনুমেয় ছিল। শহরের প্রচন্ড গরমের মাঝেও স্টেশন থেকে অনুষ্ঠানস্থলের পথের দুই পাশে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকা হাতে আর গায়ে প্রিয় দলের জার্সি চাপিয়ে নেচে গেয়ে উল্লাস করছেন হাজার হাজার সমর্থক। চারিদিকে আজেন্টাইন সমর্থকের সংখ্যার আধিক্য থাকলেও কম জড়ো হয়নি স্প্যানিশ সমর্থকরা। পাঁচ-ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা তাদের শুধু একবার কাছ থেকে দেখবেন বলে লিওনেল মেসি, রদ্রি, লিওনেল স্কালোনি কিংবা লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে। নীল আলোয় ঢাকা অনুষ্ঠানস্থরের ভেতরে ঢোকার পরও দুই দেশের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। ফিফার এই আয়োজনে মাঝে
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলন, অনুশীলন কিংবা আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন—এসব তো নিয়মিত দৃশ্য। তবে এবার নিউইয়র্কে ফুটবল বিশ্বকে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা উপহার দিল ফিফা। জাভিটস সেন্টারে আয়োজিত ‘ফ্যানাটিক ফেস্ট’ যেন পরিণত হয়েছিল ফুটবল, বিনোদন ও বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের এক মিলনমেলায়, যেখানে মূল আকর্ষণ ছিল মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগেই মানবিক বন্ধনের এক অনন্য প্রদর্শনী।
দুপুর গড়ানোর আগেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে দীর্ঘ লাইন। থার্টি ফোর স্ট্রিট-হাডসন ইয়ার্ডস মুখঅ ট্রেনগুলোর যাত্রী হতেই সেটি অনুমেয় ছিল। শহরের প্রচন্ড গরমের মাঝেও স্টেশন থেকে অনুষ্ঠানস্থলের পথের দুই পাশে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকা হাতে আর গায়ে প্রিয় দলের জার্সি চাপিয়ে নেচে গেয়ে উল্লাস করছেন হাজার হাজার সমর্থক। চারিদিকে আজেন্টাইন সমর্থকের সংখ্যার আধিক্য থাকলেও কম জড়ো হয়নি স্প্যানিশ সমর্থকরা। পাঁচ-ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা তাদের শুধু একবার কাছ থেকে দেখবেন বলে লিওনেল মেসি, রদ্রি, লিওনেল স্কালোনি কিংবা লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে। নীল আলোয় ঢাকা অনুষ্ঠানস্থরের ভেতরে ঢোকার পরও দুই দেশের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। ফিফার এই আয়োজনে মাঝে ছিল সারা বিশ্ব থেকে আসা গনশাধ্যম কর্মীদের জায়গা। তাদের দুই পাশে সমান সংখ্যক সমর্থক—ফিফার এই আয়োজনের পুরোটাই ছিল দর্শকদের কেন্দ্র করে।
বিশ্বকাপ ড্রয়ের মতো এ অনুষ্ঠানও সঞ্চালনা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক রিও ফার্দিনান্দ মার্কিন ফুটবলের কিংবদন্তি টম ব্র্যাডি । একে একে মঞ্চে ওঠেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও অধিনায়ক রদ্রি। অন্য পাশে বিশ্বকাপ ট্রফির পাশে বসেন লিওনেল মেসি, কোচ লিওনেল স্কালোনি ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও মঞ্চে বসেছিলেন।
একসময় মঞ্চে যোগ দেন টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। ইংরেজি ও স্প্যানিশ—দুই ভাষাতেই প্রশ্ন করা শুরু করেন তিনি। পরে উপস্থিত হন হলিউড অভিনেতা কেভিন হার্ট এবং এনবিএ তারকা কেভিন ডুরান্ট । কেভিন হার্টের রসিকতা, ব্র্যাডি-ফার্দিনান্দের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা আর দর্শকদের অবিরাম করতালিতে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে লামিন ইয়ামালকে নিয়ে মেসির বক্তব্যে। বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী বিস্ময়বালককে প্রশংসায় ভাসিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, শিশুকালে ইয়ামালের সঙ্গে তোলা ছবিটি এখন আরও অবিশ্বাস্য মনে হয়। তার ভাষায়, ইয়ামাল ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার এবং সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সঙ্গে হাসিমুখেই যোগ করেন, ‘আমরা অবশ্যই সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন অন্তত এই ফাইনালে সে সেটা করতে না পারে।’
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাড়তি প্রত্যাশার চাপ নিয়েও অকপট ছিলেন মেসি। তার মতে, ফুটবলকে উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। জয়ের চেয়ে হার থেকেই তিনি বেশি শিক্ষা পেয়েছেন, আর সেই শিক্ষাই তাঁকে মানুষ ও খেলোয়াড়—দুই পরিচয়েই সমৃদ্ধ করেছে।
শেষে স্কালোনি ও দে লা ফুয়েন্তের করমর্দন, মেসি-রদ্রির শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিশ্বকাপ ট্রফিকে সামনে রেখে সব তারকার একসঙ্গে তোলা সেলফি যেন মনে করিয়ে দিল—৯০ মিনিটের লড়াইয়ের আগে ফুটবল আসলে বৈরিতার নয়, বিশ্বজুড়ে মানুষকে এক সুতোয় গাঁথারই সবচেয়ে বড় উৎসব।