মেসির টানা ৭, রোনালদোর ৬, জার্মানির ৭-১ গোলের জয়সহ প্রথম রাউন্ডে যত রেকর্ড

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের খেলা। ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮ দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই দেখা গেছে নানান কীর্তি, হয়েছে অনেক রেকর্ড। যেখানে ব্যক্তিগত রেকর্ডের দেখা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরা। দলীয় সাফল্যে উজ্জ্বল ছিল আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেনসহ আরও অনেক দেশ। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলো আলাদা করেছে ফিফা। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেসব রেকর্ড-  ৭ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি কিকে গোল করে ফিফা বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোলের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি। টানা ছয় ম্যাচে গোল করে এত দিন রেকর্ডটি ছিল ফ্রান্সের জাস্ত ফন্তেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জার্জিনিয়োর (১৯৭০)। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে মেসির গোল হয়ে গেল ১৯টি। এটিও বিশ্বকাপের বিশ্ব রেকর্ড। ৬ ছয় গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। চারটি করে গোল করেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নরওয়ের আরলিং হালান্ড। এছাড়া গোলে অবদান মেসি ও এমবাপ্পের অবদান ছয়টি করে। দেম্বেলে, ভি

মেসির টানা ৭, রোনালদোর ৬, জার্মানির ৭-১ গোলের জয়সহ প্রথম রাউন্ডে যত রেকর্ড

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের খেলা। ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮ দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই দেখা গেছে নানান কীর্তি, হয়েছে অনেক রেকর্ড। যেখানে ব্যক্তিগত রেকর্ডের দেখা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরা। দলীয় সাফল্যে উজ্জ্বল ছিল আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেনসহ আরও অনেক দেশ। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলো আলাদা করেছে ফিফা। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেসব রেকর্ড- 

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি কিকে গোল করে ফিফা বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোলের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি। টানা ছয় ম্যাচে গোল করে এত দিন রেকর্ডটি ছিল ফ্রান্সের জাস্ত ফন্তেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জার্জিনিয়োর (১৯৭০)। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে মেসির গোল হয়ে গেল ১৯টি। এটিও বিশ্বকাপের বিশ্ব রেকর্ড।

ছয় গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। চারটি করে গোল করেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নরওয়ের আরলিং হালান্ড। এছাড়া গোলে অবদান মেসি ও এমবাপ্পের অবদান ছয়টি করে। দেম্বেলে, ভিনিসিয়ুস ও জার্মানির ডেনিজ উনদাভের পাঁচটি করে।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করার নিজস্ব রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এই তালিকায় তার পরেই আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, যিনি পাঁচটি আসরে গোল করেছেন। 

৪১ বছর বয়সে গোল করে রোনালদো বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়স্কতম গোলদাতা হয়েছেন। তার ওপরে আছেন কেবল ক্যামেরুনের রজার মিল্লা। একই সঙ্গে নিজের দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ ও সর্বজ্যেষ্ঠ গোলদাতার কৃতিত্বও ধরে রেখেছেন রোনালদো- যে কীর্তি রয়েছে ডেনমার্কের মাইকেল লডরুপ ও মেসির।

৯২

অবশেষে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের অপেক্ষার অবসান ঘটাল মিশর। ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া ফারাওরা ৯২ বছর পর, নিজেদের চতুর্থ আসর ও নবম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল। 

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিকো, মোহাম্মদ সালাহ ও ত্রেজেগের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। এর আগে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি অপেক্ষার রেকর্ড ছিল নরওয়ের। ১৯৩৮ সালে অভিষেকের পর ৫৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাদের। দক্ষিণ কোরিয়ার অপেক্ষা ছিল ৪৮ বছর আর পেরু, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার ৪০ বছর।

৭৮

৭৮ বছর ২৭১ দিন বয়সে কুরাসাওয়ের দায়িত্ব নিয়ে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচের রেকর্ড গড়েছেন ডিক অ্যাডভোকাট। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ৭১ বছর ৩১৭ দিন বয়সে গ্রিসের কোচ অটো রেহাগেলের।

এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার হুগো ব্রুস প্রথমে সেই রেকর্ড ভাঙেন, পরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চেকিয়ার ৭৪ বছর বয়সী মিরোস্লাভ কুবেক তাকে ছাড়িয়ে যান। নকআউট পর্বে ব্রুস ও ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ (৭৩) হবেন নকআউটে ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ।

৩২

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ৩২ মিনিটেই হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে। ১৯৫৪ সালে অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রোবস্ট চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন, যা এখনও রেকর্ড। গ্রুপ পর্বে দেম্বেলের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও কানাডার জনাথন ডেভিডও হ্যাটট্রিক করেছেন।

১৭

মেক্সিকোর বিস্ময়বালক গিলবার্তো মোরা ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক করে ইতিহাসের ষষ্ঠ কনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন। তার চেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে খেলেছেন কেবল পেলে, সালোমন ওলেম্বে, ফেমি ওপাবুনমি, স্যামুয়েল ইতো এবং নরম্যান হোয়াইটসাইড। 

অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ে, বসনিয়ার কেরিম আলাইবেগোভিচ ও স্পেনের লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপ ইতিহাসের কনিষ্ঠ গোলদাতাদের তালিকায় যথাক্রমে চতুর্থ, অষ্টম ও নবম স্থানে উঠে এসেছেন।

১৬

ইকুয়েডরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ১৬টি সেভ করে কুরাসাওকে ড্র এনে দেন গোলরক্ষক এলোই রুম। ৯০ মিনিটের ম্যাচে এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক সেভ। এর মাধ্যমে তিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়সহ যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের করা ১৬ সেভের সর্বকালীন রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন।

গ্রুপ পর্বে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে মাত্র তিন দল- আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও মেক্সিকো। অন্য দিকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'এইচ'-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র চতুর্থবার, যখন একটি গ্রুপে মাত্র একটি দল জয়ের দেখা পেয়েছে। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮২ সালের গ্রুপ 'এ', ১৯৯০ সালের গ্রুপ 'এফ' এবং ১৯৯৮ সালের গ্রুপ 'বি'-তে।

কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এবারের আসরের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে জার্মানি। ডিক অ্যাডভোকাটের দল একসময় বড় চমকের ইঙ্গিত দিলেও শেষ ৫০ মিনিটে ছয় গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় জুলিয়ান নাগেলসমানের শিষ্যরা। কাই হাভার্টজ করেন জোড়া গোল। 

এছাড়া কানাডা কাতারকে ৬-০, পর্তুগাল উজবেকিস্তানকে ৫-০ এবং সেনেগাল ইরাককে ৫-০ গোলে হারায়। এই শতাব্দীতে জার্মানির চেয়ে বড় জয় রয়েছে মাত্র তিনটি- ২০০২ সালে জার্মানি ৮-০ সৌদি আরব, ২০১০ সালে পর্তুগাল ৭-০ উত্তর কোরিয়া এবং ২০২২ সালে স্পেন ৭-০ কোস্টারিকা।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তিনটি করে অ্যাসিস্ট করেছেন ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারায়েস, সুইডেনের আলেক্সান্ডার ইসাক ও ফ্রান্সের মাইকেল ওলিস।

দুটি করে অ্যাসিস্ট করেছেন রবার্তো আলভারাদো, ব্রাহিম দিয়াজ, ব্রিল এমবোলো, হুলিও এনসিসো, রায়ান গ্রাভেনবার্খ, ভিক্টর গিয়োকেরেস, জশুয়া কিমিখ, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হানিবাল মেজব্রি, ইলিমান নিয়ায়ে, মার্টিন ওদেগার্ড, মোহাম্মদ সালাহ, নাথান সালিবা, ডেনিজ উনদাভ, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও ক্রিস উড।

একটিও গোল না হজম করে নকআউট পর্বে উঠেছে মাত্র দুটি দল- মেক্সিকো ও স্পেন। মেক্সিকোর গোলবার সামলেছেন রাউল রাঙ্গেল, আর স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত ছিলেন উনাই সিমন। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রথমবার কোনো গোল না খেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে স্পেন। 

সিমন এখন বিশ্বকাপে টানা ৪৩০ মিনিট গোল না খাওয়ার কীর্তি গড়েছেন। এই রেকর্ডের শীর্ষে আছেন ইতালির ওয়াল্টার জেঙ্গা, যিনি ১৯৯০ বিশ্বকাপে টানা ৫১৭ মিনিট গোল হজম করেননি। 

অন্যদিকে বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া বিশ্বকাপে নিজের ক্লিন শিটের সংখ্যা বাড়িয়ে আটে এবং ব্রাজিলের আলিসন সাতে নিয়েছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০টি ক্লিন শিটের যৌথ রেকর্ড রয়েছে ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন ও ফ্রান্সের ফাবিয়ান বার্তেজের।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow