মেহেরপুরে পতিত জমিতে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক কৃষক। সম্প্রতি জেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বস্তায় আদা চাষ। এ পদ্ধতিতে কম জায়গা, কম খরচ এবং সহজে পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া যায়। যা প্রচলিত চাষপদ্ধতির চেয়ে বেশি লাভজনক। ফলে দেশের মসলা উৎপাদন বাড়ছে এবং আমদানি নির্ভরতা কমছে। কম খরচে বেশি লাভ, কম পরিশ্রম এবং সহজ পরিচর্যার কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষকেরা জানান, নিজেদের বাড়ির পাশে, উঠানে কিংবা অনাবাদি জমিতে বস্তা ব্যবহার করে আদা চাষ করছেন। প্রতি বস্তায় ৭-৮ কেজি মাটি ও জৈব সার মিশিয়ে আদা রোপণ করা হচ্ছে। সময়মতো পানি ও ছায়ার ব্যবস্থা করলে খুব সহজেই ভালো ফলন পাওয়া যায় বলে জানান তারা।
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের কৃষক তোফাজ্জেল হোসেন চঞ্চল বলেন, ‘এক হাজার সাতশ বস্তায় এবার প্রাথমিকভাবে আদা চাষ করেছি। খরচ কম, ঝুঁকি কম আবার বাজারে আদার দাম ভালো থাকায় যথেষ্ট লাভ হবে। আগামীতে আরও বেশি চাষ করবো। কারণ প্রতি বস্তায় আদা চাষে খরচ হয় মাত্র ৬০ টাকা। যেখানে প্রতি বস্তায় ফলন পাওয়া যায় দেড় থেকে দুই কেজি।’
একই গ্রামের কৃষক রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘এ বছর প্রাথমিকভাবে অল্প কিছু বস্তায় আদা চাষ করেছি। এ বছর সফল হলে আগামীতে বেশি করে চাষ করবো। কারণ বস্তায় আদা চাষ পতিত জমিতে করা যায়।’
বাজারে আদার চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি জানতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, উৎপাদিত আদা এখন বাজারে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে এবং চাহিদাও অনেক।
মুজিবনগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম হোসেন জানান, কৃষকদের পতিত ও অনাবাদি জমিতে বস্তায় আদা চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্লকের বেশ কয়েকজন কৃষক বস্তায় আদা চাষ করছেন। প্রতি বস্তায় আদা চাষে কৃষকদের ব্যয় হয় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সামসুল আলম বলেন, ‘বস্তায় আদা চাষ সময়োপযোগী ও লাভজনক। এতে অনাবাদি জমি কাজে লাগানো যায়। অল্প পরিসরে বাড়ির আশপাশে চাষ সম্ভব। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায়ও পতিত জমি চাষের আওতায় এনে টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব হবে। জেলায় এ বছর ২৮ হাজার ৪০০ বস্তায় আদা চাষ হয়েছে।’
আসিফ ইকবাল/এসইউ/জিকেএস