মেয়াদ শেষ হলেও বহাল তবিয়তে আ.লীগপন্থি চেয়ারম্যানরা
কুড়িগ্রামে রৌমারী উপজেলায় মেয়াদকাল শেষ হলেও তিন ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বহাল তবিয়তে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থি চেয়ারম্যানরা। এ বিষয়ে পৃথক তিনটি প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দিয়েছেন ৩ ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দাঁতভাঙ্গা ও চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোকুনুজ্জামান কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আ.লীগপন্থি ইউপি চেয়ারম্যানরা হলেন— দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি এসএম রেজাউল করীম। বন্দবেড় ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের। অপরজন হলেন, চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান। তিনি একসময় জাতীয় পার্টির নেতা ছিলেন। পরে আ.লীগে যোগ দেন। এছাড়া তিনি পাখিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, বন্দবেড় ও চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি দায়িত্বগ্রহণ করেন। আর এসব ইউপির মেয়াদকাল শেষ হয় ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি। এই তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের
কুড়িগ্রামে রৌমারী উপজেলায় মেয়াদকাল শেষ হলেও তিন ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বহাল তবিয়তে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থি চেয়ারম্যানরা। এ বিষয়ে পৃথক তিনটি প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দিয়েছেন ৩ ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দাঁতভাঙ্গা ও চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোকুনুজ্জামান কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আ.লীগপন্থি ইউপি চেয়ারম্যানরা হলেন— দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি এসএম রেজাউল করীম। বন্দবেড় ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের। অপরজন হলেন, চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান। তিনি একসময় জাতীয় পার্টির নেতা ছিলেন। পরে আ.লীগে যোগ দেন। এছাড়া তিনি পাখিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, বন্দবেড় ও চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি দায়িত্বগ্রহণ করেন। আর এসব ইউপির মেয়াদকাল শেষ হয় ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি। এই তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার ৩ মাস অতিক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মেয়াদকাল শেষ হওয়ার বিষয়টি অবগত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি ইউপিগুলোতে প্রশাসকও নিয়োগ দেয়নি।
ইউনিয়ন পরিষদ আইনে বলা আছে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সরকার এক জন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করিবে এবং নির্বাচিত পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক দায়িত্ব পালন।
দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কালবেলাকে বলেন, আমাদের মেয়াদকাল শেষ হয়েছে। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে কোনো চিঠি না হওয়ায় আমরা এখনো দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্বগ্রহণ হস্তান্তরের চিঠি ইস্যু হলে দায়িত্ব ছেড়ে দিব।
বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের কালবেলাকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো চিঠি না পাওয়ায় বর্তমানেও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। চিঠি আসলে দায়িত্ব ছেড়ে দিব।
চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ইউপির মেয়াদ শেষ হয়েছে ঠিক। কিন্তু আমি একটি ঘটনায় বরখাস্ত হয়েছিলাম। পরে আদালত থেকে রায় পেয়ে দায়িত্বগ্রহণ করেছি। আমি আ.লীগের সঙ্গে এখন আর জড়িত নই।
মেয়াদ শেষের প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে দাঁতভাঙ্গা ও চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রোকুনুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, মেয়াদ শেষের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না।
এদিকে বন্দবেড় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, মেয়াদ শেষ হলেও এখনো প্রশাসক নিয়োগ হয়নি। আগের নির্বাচিত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। আর মেয়াদ শেষ হয়েছে এ বিষয়ে ইউএনওকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন কালবেলাকে বলেন, এ বিষয়ে জেলায় লিখিতভাবে জানিয়েছি। জেলা থেকে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় যেভাবে নির্দেশনা দিবে সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয় এবং প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথ কালবেলাকে জানান, রৌমারীর তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার বিষয় সংশ্লিষ্ট ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।