মোজাফফরের অন্ধকার জীবনের গল্প পাওয়া গেল বিদেশি সাংবাদিকের বইয়ে

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে দেশেই অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত এই আসামি অবশেষে বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি সেনা হেফাজতে রয়েছেন। ডিবি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেন আত্মগোপনে থাকার বিভিন্ন কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরদিন তিনি ভারতে পালিয়ে যান। কয়েকটি রাজ্যে অবস্থানের পর কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। ওই পরিচয়ে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণও করেন, যাতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে। ডিবির মতে, এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারপোল ও দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ

মোজাফফরের অন্ধকার জীবনের গল্প পাওয়া গেল বিদেশি সাংবাদিকের বইয়ে

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে দেশেই অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত এই আসামি অবশেষে বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

ডিবি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেন আত্মগোপনে থাকার বিভিন্ন কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরদিন তিনি ভারতে পালিয়ে যান। কয়েকটি রাজ্যে অবস্থানের পর কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। ওই পরিচয়ে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণও করেন, যাতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে। ডিবির মতে, এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারপোল ও দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৯৯৮ সালে গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে প্রায় ২৮ বছর দেশের বিভিন্ন জেলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। জীবনের শেষ সময় পরিবারের সঙ্গে কাটানোর উদ্দেশ্যে কয়েক বছর আগে ঢাকার একটি ডিওএইচএস এলাকায় শ্বশুরের ফ্ল্যাটে ওঠেন। সেখানে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করলেও নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখায় প্রতিবেশীরা তার অতীত সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, মোজাফফরের গ্রেফতারের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বহু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডে তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং দীর্ঘ সাড়ে চার দশক আত্মগোপনে থাকার নেপথ্যের তথ্য এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ: অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাড গ্রন্থে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস জিয়া হত্যাকাণ্ডে মেজর মোজাফফরের ভূমিকার একটি বিবরণ তুলে ধরেন। বইটিতে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক ঘণ্টা পর মেজর মোজাফফর, মেজর শওকত আলী ও মেজর রেজা সশস্ত্র সেনাসদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরে যান। সেখানে জিয়াউর রহমানের কক্ষ তল্লাশি করে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি পুরোনো স্যুটকেসে ভরা হয়। পরে জিয়াউর রহমান এবং নিহত দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তার মরদেহ কাপড়ে মুড়িয়ে সামরিক যানযোগে সরিয়ে নেওয়া হয়।

গ্রন্থে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও মোজাফফর উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে মঞ্জুর কথিত ‘বিপ্লবী পরিষদ’ গঠনের ঘোষণা দেন। বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পরদিন ভোরে মঞ্জুরসহ সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা সেনানিবাস ত্যাগ করেন। সামনের জিপে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব, মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মুনীর। পথে সরকার-অনুগত বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে মতিউর রহমান ও মাহবুব নিহত হন এবং মুনীর গ্রেফতার হন। তবে সেই সময় মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow