মোদীবিরোধী পোস্ট দিয়ে গুম হই, জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে লেখা পোস্ট করার কারণে গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। একই সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি দাবি করেছেন। র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এমন দাবি করেন। গত ১৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেন মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। এর পরে গত ২০ এপ্রিল জেরা করেন আসামিপক্ষ। আজ ছিল জেরার দ্বিতীয় ও শেষ দিন। এদিন তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের সিনিয়র অ্যাডভোকেট তাবারক হোসেন ও আবুল হাসানসহ অন্য আইনজীবীরা। টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের শিকার রাষ্ট্রপক্ষের এই সাক্ষীকে প্রশ্ন করা হয় গুমের জন্য আ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে লেখা পোস্ট করার কারণে গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। একই সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি দাবি করেছেন।
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এমন দাবি করেন।
গত ১৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেন মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। এর পরে গত ২০ এপ্রিল জেরা করেন আসামিপক্ষ। আজ ছিল জেরার দ্বিতীয় ও শেষ দিন। এদিন তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের সিনিয়র অ্যাডভোকেট তাবারক হোসেন ও আবুল হাসানসহ অন্য আইনজীবীরা।
টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের শিকার রাষ্ট্রপক্ষের এই সাক্ষীকে প্রশ্ন করা হয় গুমের জন্য আটকের পর মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয়েছিল কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে মাসরুর জানান, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয় তাকে। কিন্তু মুছে ফেলতে বলা হয়নি এমনকি নিজেও সেটি সরিয়ে নেননি। তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডসহ সবকিছু তারা নিয়ে নেন; যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
সাক্ষীকে আইনজীবী প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে ফেসবুকে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ার কারণে আপনাকে আটক বা গুম করা হয়নি। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আটক করা হয়।’ জবাবে এ কথাটি ‘সত্য নয়’ বলে জানান মাসরুর। তিনি বলেন, ‘মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাকে আটক করা হয়। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
জেরায় তিনি বলেন, এটা সত্য নয় যে, কৌশল খাটিয়ে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথিত টিএফআই সেল পরিদর্শনে যাই। এরপর সবকিছু দেখে এ সংক্রান্ত একটি গল্প বা নাটক তৈরি করি। এছাড়া টিএফআই সংক্রান্ত সব কথা অসত্য।
একপর্যায়ে সাক্ষীর কাছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মসজিদ তৈরির অর্থ সংগ্রহের তথ্য জানতে চান তাবারক। একই সঙ্গে চ্যারিটির কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জবাবে মাসরুর বলেন, ‘আমার সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মসজিদ তৈরি করি। এ কাজের আড়ালে অন্য কোনো তৎপরতা চালানো হয়নি।’
তাবারক দাবি করেন, আপনি মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের ‘মুক্তি পরিষদ’ নামে সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় একজন লোক। অথচ জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
জবাবে ‘ইহা সত্য নয়’ দাবি করে মাসরুর আনোয়ার বলেন, ‘মুক্তি পরিষদের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে জিয়াউল হককে বরখাস্তের খবরটিও জানা নেই।’
এফএইচ/এমকেআর
What's Your Reaction?