মোড়েলগঞ্জের সেই ইউএইচএফপিও ডা. কামাল সাময়িক বরখাস্ত

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে (ইউএইচএফপিও) সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সই করেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত ২৫ জুলাই খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালটিতে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবন এবং শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় চিকিৎসাসেবার মান ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী—কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তার দায়ি

মোড়েলগঞ্জের সেই ইউএইচএফপিও ডা. কামাল সাময়িক বরখাস্ত

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে (ইউএইচএফপিও) সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সই করেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত ২৫ জুলাই খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালটিতে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবন এবং শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় চিকিৎসাসেবার মান ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী—কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার আবশ্যকতা এবং তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বিবেচনা করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে। এই বিধান অনুযায়ী ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।

গত ২৫ জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পান। ওই সময় মন্ত্রী হাসপাতালের শৌচাগারে স্যালাইনসহ বিভিন্ন সামগ্রী এবং পরিত্যক্ত ভবনে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট হতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এ ছাড়া হাসপাতালটির বিরুদ্ধে প্রায় ২৯ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকার অভিযোগ ওঠে।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল-সংলগ্ন ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি ক্লিনিকেও যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালটি কার্যকরভাবে পরিচালনার পরিবর্তে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ক্লিনিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং সেখানে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলত।

পরবর্তীতে গত রবিবার স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক শেখ মো. মোশাররফ হোসেন উক্ত ক্লিনিকটি পরিদর্শন শেষে সিলগালা করেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবার ডা. কামালের বিরুদ্ধে এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

এসইউজে/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow