মৌলভীবাজারে দেদারসে চলছে ৪৫ অবৈধ ইট ভাটা

মৌলভীবাজার জেলায় মোট ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে এই সবকয়টি ইট ভাটাই অবৈধভাবে সচল রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এসব। এছাড়া কৃষি জমির টপ সয়েল দিয়ে ইট তৈরি করা হয়, জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। উচ্চ আদালতে রিট করে এসব ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন মালিকরা। ইট প্রস্তুত নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও জেলার বেশিরভাগ ইটভাটা ঘনবসতি এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে রয়েছে। মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে। প্রত্যেকটি ইট ভাটা অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে। ২৩টি ভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। মালিক পক্ষ উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাস অন্তর অন্তর রিট করে ভাটা চালাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কৃষি জমি, পাহাড়, টিলা থেক

মৌলভীবাজারে দেদারসে চলছে ৪৫ অবৈধ ইট ভাটা

মৌলভীবাজার জেলায় মোট ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে এই সবকয়টি ইট ভাটাই অবৈধভাবে সচল রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এসব। এছাড়া কৃষি জমির টপ সয়েল দিয়ে ইট তৈরি করা হয়, জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। উচ্চ আদালতে রিট করে এসব ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন মালিকরা।

ইট প্রস্তুত নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও জেলার বেশিরভাগ ইটভাটা ঘনবসতি এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে রয়েছে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে। প্রত্যেকটি ইট ভাটা অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে। ২৩টি ভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। মালিক পক্ষ উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাস অন্তর অন্তর রিট করে ভাটা চালাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কৃষি জমি, পাহাড়, টিলা থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ রয়েছে। তবে এসব আইনের বাস্তবিক কোনো রূপ নেই। জেলায় প্রতিবছর প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি ঘন ফুট ফসিল জমির টপ সয়েল কেটে ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে একদিকে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন ইট ভাটা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এনে পাহাড় সমান উঁচু করে রাখা হচ্ছে ইট ভাটায়। বেশিরভাগ মাটি তিন ফসলি জমি থেকে কেটে আনা হচ্ছে। একেক ভাটায় বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে গাছের খণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘনবসতি এলাকা, সড়কের পাশে ভাটা রয়েছে। এছাড়া এক কিলোমিটারর মধ্যে ৩-৪টি ইট ভাটাও রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কার্যপরিষদের সদস্য আ.স.ম সালেহ সোহেল জানান, কোনোভাবেই পরিবেশের ক্ষতি করে ইট ভাটাকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়া ফসিল জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যা রীতিমতো কৃষি ও পরিবেশকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

তবে বিভিন্ন ভাটার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, তারা বৈধভাবেই ভাটা পরিচালনা করছেন। বেশিরভাগ ইটভাটার মামলা জটিলতা রয়েছে। উচ্চ আদালতে রিট করে বৈধতা নিয়ে চালানো হচ্ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, কোনোভাবেই কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা যাবে না। যত বেশি টপ সয়েল কাটা হবে ততই জমির উর্বরতা কমবে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে, সবকয়টি অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে। ২৩টি ভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। বেশিরভাগ ভাটা আদালত থেকে রিট করে চালানো হচ্ছে। সময় শেষ হওয়ার আগেই আবার সময় বাড়িয়ে নেয় তারা।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন বলেন, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান পরিচালনা করবো।

এম ইসলাম/এফএ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow