ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা সীমান্তে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
ভারতের মেঘালয় রাজ্যে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী, এমনকি কোথাও কোথাও অতি অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সময়ে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উজান ও ভাটিতে একযোগে ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে এমনটা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা। ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে সীমান্তবর্তী জনপদে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ১ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত মেঘালয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হলেও
ভারতের মেঘালয় রাজ্যে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী, এমনকি কোথাও কোথাও অতি অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সময়ে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উজান ও ভাটিতে একযোগে ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে এমনটা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা। ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে সীমান্তবর্তী জনপদে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ১ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত মেঘালয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হলেও বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয়। এর প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মেঘালয়সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী, অতি ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ইতোমধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম খাসিয়া হিলস জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ে অতিভারী বর্ষণে খাসিয়া ও গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল সোমেশ্বরী, কংশ, ভোগাই, চেল্লাখালী ও মহারশি নদীর পানি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চলে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫৭ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫৫ মিটার। অর্থাৎ নদীটি ইতোমধ্যেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উজানে আরও ভারী বৃষ্টি হলে দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ বলেন, “সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো ছাড়া ময়মনসিংহ জেলার অন্য কোথাও এই মুহূর্তে বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি হলে শেরপুরের ভোগাই এবং নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীতে পানির প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।”
হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, “প্রতিবছর মেঘালয়ে টানা ভারী বৃষ্টি হলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভোগাই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে যায়। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও আমাদের তাড়া করে।”
দুর্গাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, “মেঘালয়ের গারো ও খাসিয়া পাহাড়ে টানা ভারী বৃষ্টি হলে ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এতে দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাটের নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হয়। পাশাপাশি নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।”
আন্তর্জাতিক বন্যা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম গুগল ফ্লাড হাবের সর্বশেষ ঝুঁকি মানচিত্রেও মেঘালয়ের দক্ষিণাঞ্চল এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকায় হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তলিয়ে যায় শত শত হেক্টর কৃষিজমি, ভেসে যায় মাছের ঘের, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির সংকট, ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই এবারের পূর্বাভাস ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “১৫ জুলাই পর্যন্ত ময়মনসিংহ অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কম থাকতে পারে। তবে ১৭ জুলাই থেকে মেঘালয়ে আবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উজানে অতিভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলেও ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।”
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।”
What's Your Reaction?