ময়মনসিংহে রুবেল হত্যা: ৪ আসামি গ্রেপ্তার, ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি

ময়মনসিংহ নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনিতে আলোচিত রাজিব আহম্মদ রুবেল ওরফে ‘কাইল্ল্যা’ রুবেল হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত মূল চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যার পেছনে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল বলে যে দাবি করা হয়েছে, তদন্তে এখন পর্যন্ত তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।  সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। গ্রেপ্তাররা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে। পিবিআই জানায়, গত ৫ জুলাই সকালে নগরীর আর কে মিশন রোডের ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিব আহম্মদ রুবেলের (৩৮) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে তিনি ওই বাসায় ভাড়া ওঠেন। এরপর বাসার মালিকের পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন ভোরে রুবেল ও বাড়ির

ময়মনসিংহে রুবেল হত্যা: ৪ আসামি গ্রেপ্তার, ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি

ময়মনসিংহ নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনিতে আলোচিত রাজিব আহম্মদ রুবেল ওরফে ‘কাইল্ল্যা’ রুবেল হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত মূল চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যার পেছনে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল বলে যে দাবি করা হয়েছে, তদন্তে এখন পর্যন্ত তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে।

পিবিআই জানায়, গত ৫ জুলাই সকালে নগরীর আর কে মিশন রোডের ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিব আহম্মদ রুবেলের (৩৮) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে তিনি ওই বাসায় ভাড়া ওঠেন। এরপর বাসার মালিকের পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন ভোরে রুবেল ও বাড়ির মালিক পারুল বেগমের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় রুবেল পারুল বেগমকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে পারুল বেগমের চার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে রুবেলের গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন তথ্য এবং পিবিআই সদর দপ্তরের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের একদিনের মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মাকে ধর্ষণের ঘটনার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা এখন পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চার আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় বাড়ির মালিক পারুল বেগমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রনি ও সজলকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আসামিরা রুবেলের কক্ষে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করেন।

নিহতের বোন রুনা আক্তার বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই বাড়ির লোকজনই তাকে হত্যা করেছে। এখন ধর্ষণের অভিযোগ তুলে হত্যার মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছেলেদের বাঁচাতেই এ গল্প সাজানো হয়েছে। যদি ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে চিকিৎসা পরীক্ষা ও ফরেনসিক তদন্তেই তার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। আমার ভাইকে যেভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে, হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ এবং দীর্ঘদিনের নানা দ্বন্দ্বও ভূমিকা রাখতে পারে। তার দাবি, রুবেলের ভয়ে এলাকার অনেকেই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইতেন না। ঘটনার কয়েক দিন আগে রুবেল ও পারুল বেগমের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। সে সময় রুবেল পারুল বেগমকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন বলেও স্থানীয়ভাবে শোনা গেছে। এছাড়া বাসাভাড়া ও বসবাসসংক্রান্ত বিরোধও চলছিল। এসব ঘটনার জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

অন্যদিকে বাড়ির মালিক পারুল বেগম দাবি করেছেন, রুবেল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেন। পরে বিষয়টি ছেলেদের জানালে তারা রুবেলের কাছে এর ব্যাখ্যা চাইতে যান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে রুবেল আহত হন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাঈনউদ্দিন খান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এদিকে পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হককে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্ট, আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow