যারা নির্বাচন চায় না, তারা ভীতি ছড়াচ্ছে : স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যারা এ নির্বাচন চায় না, তারা কিন্তু নানা রকমের উল্টাপাল্টা কাজ করছে। জনগণের মাঝে ভীতি ছড়াচ্ছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট-২০২৬ বিষয়ক বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নূরজাহান বেগম বলেন, সুযোগ কিন্তু বারবার আসে না। এবার সুযোগ এসেছে পরিবর্তনের, এটাকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা আর পূর্বের অবস্থা দেখতে চাই না। আমরা যদি সুযোগ হাতছাড়া করি, তাহলে বিপদে পড়ব। তিনি আরও বলেন, যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের প্রতিহত করা হবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা থাকবে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। আমরা সবাই মিলে গুজবসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সোচ্চার হবো। জনগণকে বোঝাবো, গুজবে যেন তারা কান না দেয়। গণভোটের প্রচার গতিশীল করতে উপদেষ্টা বলেন, দেশের মোট ভোটারের ৫০ ভাগ নারী। তাদের মধ্যে ৩৫ ভাগ লেখাপড়া জানে না। তারা সংসদ কী, উচ্চকক্ষ কী, গণভোট কী- এসব বোঝে না। প্রান্তি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যারা এ নির্বাচন চায় না, তারা কিন্তু নানা রকমের উল্টাপাল্টা কাজ করছে। জনগণের মাঝে ভীতি ছড়াচ্ছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট-২০২৬ বিষয়ক বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নূরজাহান বেগম বলেন, সুযোগ কিন্তু বারবার আসে না। এবার সুযোগ এসেছে পরিবর্তনের, এটাকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা আর পূর্বের অবস্থা দেখতে চাই না। আমরা যদি সুযোগ হাতছাড়া করি, তাহলে বিপদে পড়ব।
তিনি আরও বলেন, যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের প্রতিহত করা হবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা থাকবে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। আমরা সবাই মিলে গুজবসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সোচ্চার হবো। জনগণকে বোঝাবো, গুজবে যেন তারা কান না দেয়।
গণভোটের প্রচার গতিশীল করতে উপদেষ্টা বলেন, দেশের মোট ভোটারের ৫০ ভাগ নারী। তাদের মধ্যে ৩৫ ভাগ লেখাপড়া জানে না। তারা সংসদ কী, উচ্চকক্ষ কী, গণভোট কী- এসব বোঝে না। প্রান্তিক পর্যায়ের মা-বোনদের কাছে গিয়ে এগুলো বোঝাতে হবে। বৈষম্যের কথা, পরিবর্তনের এ কথাগুলো বোঝাতে হবে। মায়েরা কথাগুলো ভালোভাবে বুঝবে। আর এ কাজের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগাতে নির্দেশনা দেন তিনি।
নূরজাহান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল আমরা তা করতে পারিনি। এরপর অনেক আন্দোলন হয়েছে। ২০২৪-এ যে গণঅভ্যুত্থান বা ছাত্র-জনতার আন্দোলন হলো, তার মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদ বিদায় করেছি। এ আন্দোলনে কেউ তার সন্তানকে হারিয়েছে, কেউ তার বাবাকে হারিয়েছে। আমরা আর রক্ত চাই না, আমরা আর কোনো আন্দোলন চাই না। আমাদের জীবনে যেন হত্যাযজ্ঞ দেখতে না হয়, বৈষম্য দেখতে না হয়। ইচ্ছা করলেই কেউ যেন আমাদের আর গুম করতে না পারে, কেউ যেন বিনা বিচারে শাস্তি না পায়।
বিষয়গুলো বোঝাতে সন্তানদের মাধ্যমে মা-বাবার কাছে বার্তা পৌঁছাতে হবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, কৃষি বিভাগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, এনজিও কর্মীর মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের কাছে এ তথ্য পৌঁছাতে হবে। মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মুসল্লিদের নিকট তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। সেই সাথে তারা কী বুঝলো- তার ফিডব্যাক নিতে হবে। কীভাবে ভোট দিতে হবে তা তাদের বোঝাতে হবে। তাদের বলতে হবে, হ্যাঁ ভোটের চিহ্ন ‘টিক’।
সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনারা জনগণকে জানাবেন। তারা যেন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেন। আমরা শুধু জনগণকে বোঝাবো, কিন্তু ভোট দেওয়া তাদের দায়িত্ব। আপনারা কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে প্রচার করতে পারবেন না। এমনকি হাত তালিও দিতে পারবেন না। মনে রাখবেন, আপনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। তবে গণভোট হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালাতে পারবেন। এতে আইনগত কোনো বাধা নেই।
মতবিনিময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) অধ্যক্ষ ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএন মাসুদ উল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। পরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে ‘ভোটের গাড়ি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলীসহ কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?