যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি কতটা বাস্তব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে ‘বড় অংশে সমঝোতা’ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। শনিবার (২৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের মধ্যে একটি চুক্তি বড় অংশে আলোচনা ও সমঝোতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন শুধু চূড়ান্ত রূপ দেওয়া বাকি। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রণালিটি অধিকাংশ জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘শান্তিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আলোচনায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইন অংশ নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে এবং আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে ‘বড় অংশে সমঝোতা’ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
শনিবার (২৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের মধ্যে একটি চুক্তি বড় অংশে আলোচনা ও সমঝোতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন শুধু চূড়ান্ত রূপ দেওয়া বাকি।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রণালিটি অধিকাংশ জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘শান্তিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আলোচনায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইন অংশ নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে এবং আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ধাপে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি, দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালি সংকটের সমাধান এবং তৃতীয় ধাপে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৩০ দিনের আলোচনা পর্ব শুরু হবে। প্রয়োজন হলে এ সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনেও ‘ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো টোল আরোপ করা হবে না এবং ইরান স্বাধীনভাবে তেল রপ্তানি করতে পারবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এই অগ্রগতির কথা সামনে এলো।
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্প আশাবাদী বক্তব্য দিলেও ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে; ট্রাম্প ঠিক কী বলেছেন, ইরানের আপত্তিগুলো কী এবং সম্ভাব্য চুক্তির প্রধান বাধাগুলো কোথায়?
ট্রাম্প কী বলেছেন?
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সমঝোতা চুক্তি হয়েছে’ বলে জানানোর পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করবে এবং ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। খসড়া চুক্তিতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না; এমন প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা।
এদিকে শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া চুক্তিতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর বা পরিত্যাগ করার একটি ‘স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি’ রয়েছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কীভাবে ইরান এই উপকরণ হস্তান্তর বা ত্যাগ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তী ধাপের আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।
ইরান যা বলেছে?
ইরানের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তবে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু দাবির বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের একটি রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনার সময় ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও রয়েছে।
তবে তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনো তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো পদক্ষেপে সম্মতি দেয়নি। সম্ভাব্য চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিন এবং পারমাণবিক আলোচনা এগিয়ে নিতে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ এজেন্সি রোববার ভোরে জানায়, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে। সংস্থাটি আরও দাবি করে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ‘বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’। একসময় বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন এই জলপথ দিয়ে হতো।
আগেরদিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সর্বশেষ প্রস্তাবটিকে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’ বা সমঝোতা স্মারক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রথমে এতে মৌলিক নীতিগুলো নির্ধারণ করা হবে, এরপর ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
বাঘাই বলেন, এই সপ্তাহে বিরোধ কমানোর দিকে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করতে হবে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটি দেখতে হবে।
তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে বলেন, তেহরানের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধ বন্ধ করা, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো এবং লেবাননের সংঘাত থামানো।
প্রধান বিরোধের বিষয়গুলো কী?
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিরোধগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি নিয়ে। উপসাগরীয় অঞ্চলকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই নৌপথ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। কারণ, এটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত এবং আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয়। একই সঙ্গে ইরান এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ধারণাও সামনে এনেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। তারা জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় এবং সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার অভিযোগও ওঠে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, এই নৌপথে সম্পূর্ণ অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েকদিন পর যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা অবরোধ আরোপ করে। ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দিতে চাপ দিতে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা চলমান আলোচনায় নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আরেকটি বড় বিরোধের বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশেষ করে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, ইরানকে পুরোপুরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তাদের অভিযোগ, তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এ দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তেহরান ১৯৭০ সালের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ।
২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনায় (জেসিপিওএ) যোগ দেয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমিত রাখতে সম্মত হয়, যা অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার অনেক নিচে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে না। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।
তবে ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে জেসিপিওএ থেকে প্রত্যাহার করে নেন। যদিও সে সময় আইএইএ জানিয়েছিল, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলছিল। ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড কংগ্রেসকে জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন এখনো এটাই যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে দাবি করেছে, ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।
চুক্তি কি আদৌ সম্ভব?
ইরান বিশেষজ্ঞ এবং কুইন্সি ইন্সটিটিউটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ট্রিটা পারসি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) এখনো বড় ধরনের কোনো ছাড়ের বিষয় স্পষ্ট নয়। তবে এটি অন্তত উভয় পক্ষের বৃহত্তর চুক্তির দিকে এগোনোর আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পারসি বলেন, কে আগে নতি স্বীকার করল, তার প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা চূড়ান্ত ফলাফল দেখতে পাব। আগামী ৩০ দিনের আলোচনার পর যদি পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়, তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আশা করি এর বেশি সময় লাগবে না।
তিনি আরও বলেন, সংঘাতের ক্ষতিপূরণ ইরান সরাসরি পাবে কি না, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। যদিও এটি তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান হলে, এটি ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসনের চুক্তির চেয়েও বড় সমঝোতা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, সম্ভাব্য চুক্তি সফল হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ইসরায়েলের অবস্থানের ওপর।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিতারাহ সাদেকি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা গেছে যে আঞ্চলিক দেশগুলো শান্তি ও সমঝোতা চায়। তবে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে অনেক সময় পরস্পরবিরোধী বার্তাও দেখা যাচ্ছে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, আমরা দেখছি দুই পক্ষই বলছে তারা খুব কাছাকাছি, আবার খুব দূরেও রয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও এখনো উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
সাদেকি বলেন, ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো: তিনি ইসরায়েলের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না। কারণ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইসরায়েল সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতা ভেস্তে দিতে আগ্রহী।
আল জাজিরা অবলম্বনে
What's Your Reaction?