যুক্তরাষ্ট্রকে খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার দিতে প্রস্তুত সোমালিল্যান্ড

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের খনিজ সম্পদ ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিতে প্রস্তুত- এমন ঘোষণা দিয়েছেন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল’ সোামালিল্যান্ডের এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইঙ্গিতের পর এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী খাদার হুসেন আবদি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের খনিজ সম্পদে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও আমরা উন্মুক্ত। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবো। গত ডিসেম্বর একমাত্র দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। ১৯৯১ সালে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পৃথক হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো সোামালিল্যান্ড বিষয়ে তাদের অবস্থানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি। তবে আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের এক সংবাদ সম্মেলনে সোামালিল্যান্ড প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে বল

যুক্তরাষ্ট্রকে খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার দিতে প্রস্তুত সোমালিল্যান্ড

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের খনিজ সম্পদ ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিতে প্রস্তুত- এমন ঘোষণা দিয়েছেন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল’ সোামালিল্যান্ডের এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইঙ্গিতের পর এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী খাদার হুসেন আবদি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের খনিজ সম্পদে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও আমরা উন্মুক্ত। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবো।

গত ডিসেম্বর একমাত্র দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। ১৯৯১ সালে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পৃথক হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো সোামালিল্যান্ড বিষয়ে তাদের অবস্থানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি। তবে আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের এক সংবাদ সম্মেলনে সোামালিল্যান্ড প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি এই বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে তিনি সোমালিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদকে নিয়ে নানা কটুক্তি করেছিলেন।

এদিকে, ইসরায়েলের স্বীকৃতি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় সোমালিয়া। তারা এটিকে তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করে। আফ্রিকার বেশির ভাগ দেশ ও আরব নেতাও সোমালিয়ার অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে সোমালিয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে এ স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি, যিনি সিরো নামে পরিচিত, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতানিয়াহুর ‘নেতৃত্ব ও সংকল্পের’ প্রশংসা করেন।

সিরো সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলকে তাদের খনিজ সম্পদে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। একই সময়ে খাদার হুসেন আবদি বলেছেন, ইসরায়েলকে সামরিক উপস্থিতির সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া যায় না।

গালফ অব এডেনের ওপারে, ইয়েমেনের ঠিক বিপরীতে সোামালিল্যান্ডের অবস্থান। এই এলাকায় হুথি যোদ্ধারা অতীতে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের সম্পদে হামলা চালিয়েছে। ফলে অঞ্চলটির কৌশলগত অবস্থান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর নজরে রয়েছে।

সোামালিল্যান্ডের কর্মকর্তারা দাবি করেন, তাদের এই অঞ্চলে লিথিয়াম, কোলটানসহ বহুল চাহিদাসম্পন্ন নানা খনিজ সম্পদ রয়েছে। যদিও এসব সম্পদের বিষয়ে নিরপেক্ষ গবেষণা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow