যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই

অনলাইন দুনিয়ার তুমুল আলোচিত-সমালোচিত ব্রিটিশ-মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান টেটকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের জারি করা নতুন ৩৮টি গুরুতর ফৌজদারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই দুই ভাইকে হেফাজতে নিয়েছে মার্কিন পুলিশ। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) ও মার্কিন বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর নিশ্চিত করেছে। নতুন করে দায়ের হওয়া এই মামলাগুলোর পর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯টিতে। টেট ভাইদের বিরুদ্ধে মূলত ধর্ষণ, মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের মতো মারাত্মক সব অভিযোগ আনা হয়েছে। Influencer brothers Andrew and Tristan Tate were arrested by federal authorities Saturday in Miami on an extradition request from the UK, where they face rape and human trafficking charges. pic.twitter.com/bOfYFsduAr — Molly Ploofkins (@Mollyploofkins) July 18, 2026 নতুন মামলায় কী রয়েছে? যুক্তরাজ্যের বিশেষ অপরাধ দমন শাখার প্রধান ম্যালকম ম্যাকহ্যাফি জানিয়েছেন, বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের কাছ থেকে নতুন তথ্য-প্রমাণ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই

অনলাইন দুনিয়ার তুমুল আলোচিত-সমালোচিত ব্রিটিশ-মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান টেটকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের জারি করা নতুন ৩৮টি গুরুতর ফৌজদারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই দুই ভাইকে হেফাজতে নিয়েছে মার্কিন পুলিশ।

যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) ও মার্কিন বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

নতুন করে দায়ের হওয়া এই মামলাগুলোর পর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯টিতে। টেট ভাইদের বিরুদ্ধে মূলত ধর্ষণ, মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের মতো মারাত্মক সব অভিযোগ আনা হয়েছে।

নতুন মামলায় কী রয়েছে?

যুক্তরাজ্যের বিশেষ অপরাধ দমন শাখার প্রধান ম্যালকম ম্যাকহ্যাফি জানিয়েছেন, বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের কাছ থেকে নতুন তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর এই অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন মামলায় মোট ৭ জন ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে।

অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে নতুন করে ৭টি ধর্ষণ মামলা, যৌন পাচার ও শিশুর আপত্তিকর ছবি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যে তার বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২টিতে।

অন্যদিকে, অ্যান্ড্রু টেটের ছোট ভাই ট্রিস্টান টেটের তার বিরুদ্ধে ২টি ধর্ষণ ও যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে মানব পাচারের ৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে তার মোট মামলার সংখ্যা এখন ১৭টি।

তদন্তকারীদের দাবি, ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে এই অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছিল। অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট- উভয়েরই যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। গ্রেফতারের পর এখন তাদের যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।

রোমানিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র: টেট ভাইদের আইনি লড়াই

টেট ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় অবস্থান করছিলেন এবং সেখানেও তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে অপরাধমূলক তদন্ত চলছে। এর আগে ২০২৪ সালে বেডফোর্ডশায়ার পুলিশ তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

গত জুনে এই দুই ভাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ব্রিটিশ নারীদের নাম প্রকাশের জন্য একটি আইনি আবেদন করেছিলেন, যা আদালত খারিজ করে দেয়। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার স্বার্থে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার আগে নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ প্রসিকিউশন।

যুক্তরাজ্যের ভুক্তভোগী নারীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী ম্যাট জুরি এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষণ ও মানব পাচারের মতো সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এবার তাদের আদালতের মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে।

‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’, দাবি টেটের আইনজীবীর

গ্রেফতারের পর শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে টেট ভাইদের মার্কিন আইনজীবী জোসেফ ম্যাকব্রাইড এক বিবৃতিতে তাদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। এই নতুন মামলাগুলোকে তিনি একটি ‘রাজনৈতিক হামলা’ বা পলিটিক্যাল হিট বলে আখ্যা দেন।

ম্যাকব্রাইডের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে টেট ভাইদের দায়ের করা একটি মানহানি মামলার পাল্টা জবাব দিতেই তড়িঘড়ি করে এই নতুন অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।

এই আইনজীবী বলেন, সারা বিশ্ব জানে অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান নির্দোষ। তাদের শত্রুরাও এটা খুব ভালো করেই জানে, আর সে কারণেই তাদের ওপর এই আক্রমণ। আমরা নিশ্চিত, একজন যোগ্য বিচারক যখন আসল তথ্যগুলো দেখবেন, তখন টেট ভাইয়েরা সসম্মানে মুক্তি পাবেন। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যুক্তরাজ্যের নোংরা রাজনৈতিক খেলার অংশ হবে না।

তবে আইনজীবীর এই দাবি সত্ত্বেও মার্কিন মার্শাল এবং বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইনি চুক্তি ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তরুণদের একটি বড় অংশের কাছে তুমুল জনপ্রিয় কিন্তু চরম নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত এই ইনফ্লুয়েন্সারের ভাগ্য এখন কোন দিকে যায়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন তোলপাড়।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow