যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম পণ্যের রপ্তানিতে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীনে থাকা দ্য অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি ২০২৫ সালে ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৯৫৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৭১২ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে ৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ডেনিম আমদানি করে, যা আগের বছর ছিল ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের এই ডেনিম বাজারে ২৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অংশীদারত্ব নিয়ে শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে অস্থির বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোশাকপণ্য রপ্তানি করে ৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা ২০২৪ সালের ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম পণ্যের রপ্তানিতে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীনে থাকা দ্য অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি ২০২৫ সালে ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৯৫৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৭১২ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে ৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ডেনিম আমদানি করে, যা আগের বছর ছিল ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের এই ডেনিম বাজারে ২৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অংশীদারত্ব নিয়ে শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

২০২৫ সালে অস্থির বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোশাকপণ্য রপ্তানি করে ৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা ২০২৪ সালের ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধিযুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম বাজারে মার্কেট শেয়ারে সবার শীর্ষে বাংলাদেশ, ছবি: ওটেক্সা 

প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী ডেনিম আমদানি ২০২৫ সালে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা সামগ্রিক বাজারে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

এই বাজারে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। রপ্তানি ৩৪ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৯৭ শতাংশে, যা প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক বেশি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেক্সিকোর রপ্তানি ২ দশমিক ১৮ শতাংশ কমে শূন্য দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল শূন্য দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। দেশটির বাজার অংশীদারত্ব ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

আরও পড়ুন
১৯% পাল্টা শুল্ক ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের নতুন সম্ভাবনা
জ্বালানি সংকটের চাপ পণ্য সরবরাহে
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে কমছে রপ্তানি আদেশ, বাড়ছে ব্যয়
অর্থনীতি চাঙা করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস চান ব্যবসায়ীরা

ভিয়েতনাম ২৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে শূন্য দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। দেশটির বাজার অংশীদারত্ব ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ হলেও, প্রবৃদ্ধি ও অংশীদারত্ব—দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

পাকিস্তানের রপ্তানি ১৬ দশমিক ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে শূন্য দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল শূন্য দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে দেশটি মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখালেও বাংলাদেশ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে।

কম্বোডিয়া ২২ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল শূন্য দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। তবে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে এটি এখনও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ছোট অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধিযুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

অন্যদিকে, চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ৫১ দশমিক ২২ শতাংশ কমে শূন্য দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল শূন্য দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। দেশটির বাজার অংশীদারত্ব কমে ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করেছে।

মিশরের রপ্তানি ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে শূন্য দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল শূন্য দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে দেশটি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

ছোট রপ্তানিকারকদের মধ্যে ভারত ৬১ দশমিক ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে শূন্য দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং ইন্দোনেশিয়া সর্বোচ্চ ৬৮ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শূন্য দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে তাদের বাজার অংশীদারত্ব যথাক্রমে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় খুবই কম।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ শুধু সর্বোচ্চ বাজার অংশীদারত্বই ধরে রাখেনি, বরং প্রধান প্রতিযোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম বাজারে তার নেতৃত্ব আরও সুসংহত করেছে।

আরও পড়ুন
পরিবেশবান্ধব সনদ পেলো দেশের আরও ৫ কারখানা
তৈরি পোশাকে ‘বিশ্বজয়ী বাংলাদেশ’ তুলায় বিদেশনির্ভর
পোশাক রপ্তানিতে মার্কিন শুল্ক আরও কমানোর অনুরোধ
নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতা ব্যবসায়িক পরিবেশে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশ্লেষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন।

প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও উৎপাদন সক্ষমতা

বাংলাদেশ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন করতে সক্ষম এবং তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বড় অর্ডার দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন পুনর্বিন্যাস

চীননির্ভরতা কমাতে, চায়না প্লাস ওয়ান কৌশল গ্রহণ করছে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো। এই পরিবর্তনের বড় সুবিধাভোগী হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে অনেক বিদেশি ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে বেশি পণ্য কিনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

পরিবেশবান্ধব ও কমপ্লায়েন্ট কারখানা

বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ গ্রিন গার্মেন্টস কারখানার একটি বড় অংশ অবস্থিত। ফল আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পরিবেশ সংক্রান্ত নীতিমালা পালনে এবং তাদের চাহিদা পূরণ সহজ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সবুজ কারখানা বা গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন’ (লিড) সনদ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ২৮০টি সবুজ কারখানা রয়েছে, যা দেশের পোশাকশিল্পে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এর মধ্যে ১১৮টি প্লাটিনাম এবং ১৪৩টি গোল্ড রেটিং অর্জন করেছে। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত লিড কারখানার মধ্যে বাংলাদেশেরই ৫২টি কারখানা স্থান করে নিয়েছে,যা এই খাতের টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতির স্পষ্ট প্রমাণ।

ডেনিম খাতে বিশেষ দক্ষতা

গত কয়েক বছর বাংলাদেশের ডেনিম উৎপাদনকারীরা প্রযুক্তি এবং গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। ফলে, ডেনিম উৎপাদন, ওয়াশিং, ফিনিশিং এবং ডিজাইন উন্নয়নে বাংলাদেশের কারখানাগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে গভীর দুশ্চিন্তায় ভারত
জাপানের সঙ্গে চুক্তি ১০০ বিলিয়ন রপ্তানি লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে
সবুজ কারখানায় তৈরি পোশাকের সঠিক মূল্যায়ন প্রয়োজন
এমপি পদে বিজয়ী ১৭৪ ব্যবসায়ী, পোশাক খাতের অন্তত ১৫ জন

আমদানি উৎসে পরিবর্তন

চীনের ডেনিম রপ্তানিতে ৫১ শতাংশের বেশি পতন বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যা বাংলাদেশ কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ডেনিম সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্কেলযোগ্য কেন্দ্রগুলোর একটি। মূল্য প্রতিযোগিতা, সময়মতো সরবরাহ এবং কমপ্লায়েন্স নিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা ক্রমেই বাংলাদেশমুখী হচ্ছেন।

এছাড়া ডেনিম সেক্টরে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও বড় বাজার দখলের সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধিবাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম বাজারের ৭৭.২ শতাংশ দখল করে আছে, ছবি: ওটেক্সা

যা বলছেন রপ্তানিকারকরা

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও অরিন ডেনিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উচ্চ প্রবৃদ্ধি আমাদের শক্তি ও সক্ষমতার পরিচয় দেয়। আমরা এই বাজারে শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান করছি, যা একটি গর্বের বিষয়। তবে এই প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিক রাখতে হলে আমাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে এবং উৎপাদন ও পণ্যের উন্নয়নে আরও উন্নততর ও সূক্ষ্মতর দিকগুলোতে মনোনিবেশ করতে হবে।’

‘কেবল ভলিউমনির্ভর উৎপাদন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; বরং ব্র্যান্ডভিত্তিক কাজ, নতুন পণ্যের উদ্ভাবন এবং মূল্য সংযোজনই হবে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি। বিশেষ করে রিসাইকেলড ইয়ার্ন, মিশ্র ফাইবার (পলিয়েস্টার, ভিসকোস, উল) এবং আধুনিক ওয়াশিং ট্রেন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ বলছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, টেকসই উৎপাদন ও নতুন ডেভেলপমেন্ট ছাড়া ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত।

সার্বিকভাবে, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও এ অবস্থান ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে বেসিক পণ্যের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্ভাবন, বৈচিত্র্য এবং টেকসই উৎপাদনে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।

আরও পড়ুন
জেনারেটর চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না পোশাক মালিকরা
বাংলাদেশের উৎপাদন খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত অযৌক্তিক ও অসম্মানজনক
বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার নিয়ে মুখোমুখি পোশাক খাতের ৩ শীর্ষ সংগঠন
জিডিপিতে ১৩ শতাংশ অবদান থাকলেও সরকারের ১৩ মিনিট সময় নেই

‘বাংলাদেশের ডেনিম খাতের যাত্রা একটি অসাধারণ সাফল্যের গল্প। ১৯৮৪ সালে মাত্র ১২ হাজার ডলারের রপ্তানি দিয়ে শুরু হওয়া এই শিল্প আজ বার্ষিক ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রপ্তানি অর্জন করেছে এবং বৈশ্বিক ডেনিম বাজারে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে’ বলে জানান ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।

বিজিএমইএর সাবেক এই পরিচালক বলেন, ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি কৌশলগত বিনিয়োগ এবং প্রায় ৫০টি আধুনিক মিল স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডেনিম খাত তৈরি পোশাকশিল্পে বৈচিত্র্য এবং উদ্ভাবনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় বাজারে ২৫ শতাংশেরও বেশি মার্কেট শেয়ার ধরে রেখেছে এবং শীর্ষস্থানীয় ডেনিম সরবরাহকারী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। পাশাপাশি, এটি এইচঅ্যান্ডএম, জারা, প্রাইমার্ক এবং ওয়ালমার্টের মতো বিশ্বখ্যাত রিটেইল ব্র্যান্ডগুলোর প্রধান সোর্সিং হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বলে মন্তব্য করেন মহিউদ্দিন রুবেল।

তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলাদেশের দক্ষতা, কৌশলগত বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতার প্রতীক।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

ডেনিম রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জরুরি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। যেমন জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, লজিস্টিকস ও বন্দর জট, ডলার সংকট ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রম দক্ষতা উন্নয়ন। পাশাপাশি পণ্যের মানোন্নয়নে এবং যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গবেষণায় বিনিয়োগ করতে হবে।

তারা দাবি করেন, এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বাংলাদেশ আরও দ্রুতগতিতে বাজার সম্প্রসারণ করতে পারবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম বাজারে দীর্ঘমেয়াদে তার নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে টেকসই উৎপাদন, ডিজাইন উন্নয়ন এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে পারলে উচ্চমূল্যের বাজারেও প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি চলমান সব সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আইএইচও/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow