যুগ্ম-সচিবের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তার উপরে ১৩ উপসচিব

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দশ বছর আগের তালিকা বাদ দিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) নতুন জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। এতে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা উপেক্ষা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম পেছনে চলে গেছে। এমনকি চলতি দায়িত্বে থাকা ইসির দুজন যুগ্ম-সচিবের নাম ১৩জন উপসচিবের পরে চলে গেছে। একইভাবে অনেক জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপরে উঠে এসেছে। নতুন এ তালিকা প্রকামের পর ইসি কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা জানান, জুনিয়র অফিসারদের নাম নতুন তালিকায় উঠে আসায় ইসিতে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে। একাধিক ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।  এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশে সদ্য যোগ দেওয়া ৮০ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে পুরো তালিকা নতুন করে করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকা

যুগ্ম-সচিবের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তার উপরে ১৩ উপসচিব

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দশ বছর আগের তালিকা বাদ দিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) নতুন জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। এতে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা উপেক্ষা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম পেছনে চলে গেছে। এমনকি চলতি দায়িত্বে থাকা ইসির দুজন যুগ্ম-সচিবের নাম ১৩জন উপসচিবের পরে চলে গেছে।

একইভাবে অনেক জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপরে উঠে এসেছে। নতুন এ তালিকা প্রকামের পর ইসি কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা জানান, জুনিয়র অফিসারদের নাম নতুন তালিকায় উঠে আসায় ইসিতে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে। একাধিক ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশে সদ্য যোগ দেওয়া ৮০ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে পুরো তালিকা নতুন করে করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশ হয়েছে এবং যারা উচ্চতর পদে যোগ দিয়েছে, তাদের নাম উপরে উঠে এসেছে। 

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ২০১৬ সালে প্রকাশিত গ্রেডেশন তালিকায় যারা আগে যোগ দিয়েছে, তাদেরকে সিনিয়র করে তালিকা করা হয়। ওই তালিকা নিয়ে অনেকের আপত্তি ছিল। এ কারণে ১৯৭০ সালের জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নীতিমালাও বিবেচনায় নিতে হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার ৭৩৮ জন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ওই তালিকা দেখে অনেক কর্মকর্তা বিস্মিতও হয়েছেন। কেউ কেউ সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, খসড়া তালিকার সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকার অনেক পার্থক্য রয়েছে। খসড়া তালিকার উপর মতামত নেওয়া হয়। কিন্তু ওই তালিকায় পরিবর্তন আনা হলেও দাবি-আপত্তি নেওয়া হয়নি। চরম গোপনীয়তার মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

আরও জানা যায়, নতুন তালিকার ১৪ তম স্থানে রয়েছেন নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-২ এর প্রধান মো. মঈন উদ্দীন খান। বর্তমানে তিনি যুগ্ম সচিবের চলতি দায়িত্বেও রয়েছেন। আগের তালিকায় তিনি প্রথম স্থানে ছিলেন। তার অধীনে থাকা বেশ কয়েকজন উপ-সচিব নতুন তালিকায় তার চেয়ে উপরে চলে এসেছেন। একইভাবে নতুন তালিকায় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ এর প্রধান মো. আব্দুল হালিম খানের অবস্থান ১৫তম স্থানে। আগের তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। 

ইসির কাঠামো অনুযায়ি, মাঠ পর্যায়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা। নতুন তালিকার ৩০০তম অবস্থানে রয়েছে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের। তারই অধীনস্থ যশোর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিনের অবস্থান ২৮৩তম নম্বরে আর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ছামিউল আলমের অবস্থান ২৮৯ নম্বরে। ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম শাহ ২৯৯তম অবস্থানে ও রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ৩০১তম অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অধীনস্থ বেশ কয়েকজন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তা নতুন তালিকায় তাদের উপরে রয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow