যুদ্ধ ও অবহেলায় সুদানের দারফুরে প্রাণঘাতী হাম রোগের প্রাদুর্ভাব

যুদ্ধ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে সুদানের দারফুর অঞ্চলে ভয়াবহ হাম রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে বহু শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বলে জানা গেছে। ৩৭ বছর বয়সী হাওয়া আদম তার দুই বছর বয়সী ছেলে আলিকে হারিয়েছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব-দারফুরের লাবাদো এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ার দুই দিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম এটি সাধারণ কোনো শিশু রোগ। কখনো ভাবিনি এই মহামারিতে আমার সন্তানকে হারাবো। হাওয়া আদমের মতে, মৌলিক চিকিৎসাসেবা না থাকা—যেমন টিকা ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের অভাব—তার সন্তানের মৃত্যুর প্রধান কারণ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অধিকাংশ চিকিৎসক এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মার্চ থেকে লাবাদোর বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,০০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এই সংখ্যা কমিয়ে ২৬ জন মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। ইউনিসেফের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর ১১ এপ্রিল টিকা সরবরাহ আসে এবং ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি,

যুদ্ধ ও অবহেলায় সুদানের দারফুরে প্রাণঘাতী হাম রোগের প্রাদুর্ভাব

যুদ্ধ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে সুদানের দারফুর অঞ্চলে ভয়াবহ হাম রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে বহু শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বলে জানা গেছে।

৩৭ বছর বয়সী হাওয়া আদম তার দুই বছর বয়সী ছেলে আলিকে হারিয়েছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব-দারফুরের লাবাদো এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ার দুই দিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম এটি সাধারণ কোনো শিশু রোগ। কখনো ভাবিনি এই মহামারিতে আমার সন্তানকে হারাবো।

হাওয়া আদমের মতে, মৌলিক চিকিৎসাসেবা না থাকা—যেমন টিকা ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের অভাব—তার সন্তানের মৃত্যুর প্রধান কারণ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অধিকাংশ চিকিৎসক এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মার্চ থেকে লাবাদোর বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,০০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এই সংখ্যা কমিয়ে ২৬ জন মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

ইউনিসেফের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর ১১ এপ্রিল টিকা সরবরাহ আসে এবং ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি, যা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ বা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক হতে পারে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি দারফুর অঞ্চলের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিফলন। যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে, নিয়মিত টিকাদান বন্ধ হয়ে গেছে এবং চিকিৎসাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল ইসা জানান, তার দুই বছর বয়সী মেয়ে এবং পরিবারের আরও দুই শিশু এই রোগে মারা গেছে। তিনি বলেন, আমরা শুধু ঘরোয়া চিকিৎসা করার চেষ্টা করেছি, কারণ ওষুধ কিনতে পারিনি বা পাইনি।

চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফেব্রুয়ারির পর থেকে ওষুধ শেষ হয়ে যায়। বেসরকারি ফার্মেসিতে ওষুধ থাকলেও অধিকাংশ মানুষের তা কেনার সামর্থ্য নেই।

স্থানীয়রা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, দারফুরে নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভাঙন এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

একজন মা হাওয়া আদমের কথায় এই সংকটের গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে: ওরা এখনও বেঁচে থাকতে পারতো। দারফুরে যাদের টাকা নেই, তারা মারা যায়।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow