যুদ্ধের অজুহাতে আবার চড়া ফলের বাজার

রমজানে গত ২-১ দিনের ব্যবধানে আমদানি করা বিদেশি ফলের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশি ফলের দাম। এছাড়াও নিম্নমানের ফলে ছেয়ে গেছে ফলের বাজার। ব্যবসায়ীদের দাবি ইরানে যুদ্ধ শুরু হতেই আবার বাড়ছে ফলের দাম। আর ক্রেতারা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকা আর ব্যবসায়ীদের হটকারী সিদ্ধান্তের কারণেই অস্থির ফলের বাজার। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানী ঘেঁষা সাভারের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। রোজার শুরুতে ফলের বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সপ্তাহখানেক পর তা ছিল কমে যায়। তবে এখন ফের বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কয়েকটি বিদেশি ফল এখন সাধারণের জন্য বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাভারের বৃহত্তর ফলের পাইকার বাজার বাইপাইল ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আপেল বেচা হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায়। দু’তিন দিন আগেও যা ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। কালো আঙুরের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দুদিন আগে ৫০০ টাকায় বেচা এই আঙুর এখন কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে কেজিতে ৫২০ থেকে ৬০০ টাকা। সবুজ বা সাদা আঙুর আগের মতো ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। কমলা ও মাল্টার দামও কিছুটা বেড়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি কমলা বেচা হচ্ছে ২৮

যুদ্ধের অজুহাতে আবার চড়া ফলের বাজার

রমজানে গত ২-১ দিনের ব্যবধানে আমদানি করা বিদেশি ফলের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশি ফলের দাম। এছাড়াও নিম্নমানের ফলে ছেয়ে গেছে ফলের বাজার।

ব্যবসায়ীদের দাবি ইরানে যুদ্ধ শুরু হতেই আবার বাড়ছে ফলের দাম। আর ক্রেতারা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকা আর ব্যবসায়ীদের হটকারী সিদ্ধান্তের কারণেই অস্থির ফলের বাজার। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানী ঘেঁষা সাভারের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

রোজার শুরুতে ফলের বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সপ্তাহখানেক পর তা ছিল কমে যায়। তবে এখন ফের বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কয়েকটি বিদেশি ফল এখন সাধারণের জন্য বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাভারের বৃহত্তর ফলের পাইকার বাজার বাইপাইল ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আপেল বেচা হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায়। দু’তিন দিন আগেও যা ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা।

কালো আঙুরের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দুদিন আগে ৫০০ টাকায় বেচা এই আঙুর এখন কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে কেজিতে ৫২০ থেকে ৬০০ টাকা। সবুজ বা সাদা আঙুর আগের মতো ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। কমলা ও মাল্টার দামও কিছুটা বেড়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি কমলা বেচা হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। মাল্টার কেজিতে এখনও ক্রেতাকে গুণতে হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা। তবে আনারের বাজার রয়েছে স্বাভাবিক। রোজার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

যুদ্ধের অজুহাতে আবার চড়া ফলের বাজার

ফল ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে ফলের বাজার কমতে শুরু করলেও ইরানে যুদ্ধ শুরু হতেই আবার বাড়ছে ফলের বাজার। তবে কয়েকদিন পর থেকে কিছু কিছু ফলের দাম কমতে পারে।

অন্যদিকে খেজুরের চড়া বাজার রয়েছে স্থিতিশীল। সাভারের বাজারে জাতবেদে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০০ টাকা। সাধারণ জাইদি খেজুর ১৭০-২০০ টাকা, খুরমা খেজুরের দাম ৩৫০-৪০০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ৬৫০-৮০০টাকা, সুক্কারি খেজুর ৮০০-১২০০ টাকা, আজওয়া খেজুর ১০০০-১৮০০ টাকা ও মেডজুল খেজুর ১৫০০-২২০০ টাকা।

খেজুর ব্যবসায়ী মোক্তার বলেন, খেজুরের দাম ধরা হয় খেজুরের জাত আর আকারের ওপর ভিত্তি করে। রমজানের শুরুতে খেজুরের দাম যেমন ছিল এখনও ঠিক তেমনই রয়েছে। তবে কোনো কোনো খেজুরের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

এদিকে বিদেশি ফলের পাশাপাশি দেশি ফলের দামও চড়া। রোজার শুরুতে প্রতি হালি বাংলা কলা বেচা হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এখন দাম আরও বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

সবরি কলার হালি রোজার শুরুতে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ফের দাম বেড়ে প্রতি হালিতে যোগ হয়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। সাধারণ মানের চম্পা কলার দরও বেড়েছে। প্রতি হালি কিনতে গেলে খরচ হবে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

পেঁপের দামও বেড়েছে। মাঝারি মানের পাকা পেঁপে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতে পেঁপের কেজি ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। অপরিবর্তিত রয়েছে সাধারণের ফল হিসেবে পরিচিত বরইয়ের দাম, প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা। রোজার আগে বরই কেজি ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

যুদ্ধের অজুহাতে আবার চড়া ফলের বাজার

রমজানে চাহিদা থাকায় এবার তরমুজের দামও ঊর্ধ্বমুখী। আকার ভেদে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। ফলে মাঝারি একটি তরমুজের দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা।

এদিকে নিম্নমানের ফলে ছেয়ে গেছে ফলের বাজার- এমন অভিযোগ করছেন অনেক ক্রেতা। কেউ আবার বলছেন প্রশাসনের নজরদারি না থাকা আর ব্যবসায়ীদের হটকারী সিদ্ধান্তের কারণেই ফলের বাজার অস্থির।

ক্রেতা আজাহার মিয়া বলেন, ৭০ টাকা ধরে ৫৫০ টাকা দিয়ে একটি তরমুজ নিয়েছি। বাসায় গিয়ে দেখি, ভেতরে সাদা। পুরো টাকাটাই জলে। এছাড়াও পরিপক্বতা না আসা অনেক ফলও এখন বাজারে। যা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা।

আরেক ক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনকে চাল ডালের বাজারে অভিযান চালাতে দেখলেও সাভারের ফলের বাজারে দেখিনি। আশা করবো প্রতিটি বাজারেই তাদের নজরদারি থাকবে। তাদের নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে প্রতিদিন নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছে।

মাহফুজুর রহমান নিপু/এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow